আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রকাশ্যে এল মুম্বই পুলিশের বিশাল আর্থিক দুর্নীতি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে 'কাগজে-কলমে' থাকা ১০ জন কর্মীর নামে প্রায় ৬.৪১ কোটি টাকা বেতন বাবদ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ছ'বছর পর পুরনো বেতন সংক্রান্ত পোর্টাল 'সেবার্থ' থেকে নতুন সফটঅয়্যার প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের তথ্য স্থানান্তরিত করার সময় এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

 

মুম্বইয়ের উত্তর আঞ্চলিক বিভাগের এক পুলিশ আধিকারিকের এই অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ অনুযায়ী, পেশায় পুলিশ নন, এমন দশজন কর্মীকে নিয়মিত কর্মী হিসেবে দেখিয়ে প্রতি মাসে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে তাঁর দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী এই ১০ জন ভুয়ো ব্যক্তি হলেন— রামদাস ভোগলে, সুধাকর কদম, সরজু যাদব, ভাগবত ভোঁসলে, গুনাজি খাবকর, মহাদেব হালদানকর, রাজেন্দ্র সোনার, উত্তম থোরাত, সূর্যকান্ত পাতিল এবং পান্ডুরাং কদম।

পুলিশি তদন্তে দেখা গিয়েছে, মূলত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২০ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর— এই দু'টি সময়সীমার মধ্যেই এই অননুমোদিত লেনদেনগুলি বেশি ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি মন্ত্রক স্তরের কিছু ক্লার্ক ও আধিকারিক এই জালিয়াতির ফাঁদ পেতেছেন। তাঁরা হাজিরা খাতা এবং নথিপত্র জাল করে এই ভুয়ো কর্মীদের নাম বেতনভোগীদের তালিকায় যুক্ত করেছিলেন। সেই সময়ে অফিসের দায়িত্বে থাকা পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন— প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রামকিষাণ গোস্বামী, নাগেশ তালভাডেকর, বিজয়া চভন এবং হেড ক্লার্ক অজয় রাঠোর ও সিনিয়র ক্লার্ক অমোল মেশরাম।

 

অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তিদের ভুয়ো সার্ভিস আইডি এবং ডিফাইনড কন্ট্রিবিউশন পেনশন স্কিম (DCPS) আইডি তৈরি করে বেতন দেওয়ার অপরাধে মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যে বিজয়া চভন ও অমোল মেশরামকে বরখাস্ত করেছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা কোনও বেসরকারি চাকরি বা ব্যবসাও করতে পারবেন না। এমনকী জীবনধারণ সংক্রান্ত ভাতা পাওয়ার জন্য তাঁদের নিয়মিত আবেদন জমা দিতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া বৃহন্মুম্বই এলাকা ছাড়তে পারবেন না তাঁরা বলেও জানা গিয়েছে।

 

বর্তমানে ওই ১০ ভুয়ো ব্যক্তির আসল পরিচয় এবং কার নিয়ন্ত্রণে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি চালানো হত, তার তদন্ত করছে পুলিশ। সম্প্রতি একই ধরনের আর্থিক কারচুপির ঘটনা ধুলে এবং লাতুরেও দেখা গিয়েছে। ফলে গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা বেতন ব্যবস্থার নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।