বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জাতীয় পুরস্কার বিজয়ী পরিচালক-অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি সম্প্রতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। গত ৪ঠা আগস্ট ছিল তাঁর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটিতে অনুরাগীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি শেয়ার করেছেন তাঁর শৈশবের এক অজানা ও দারুণ মিষ্টি স্মৃতির গল্প।
জন্মদিনের পরের দিন ফেসবুকের দেওয়ালে একটি মন ভালো করা দীর্ঘ পোস্ট লেখেন কৌশিক গাঙ্গুলি। প্রথমেই ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি লেখেন, "প্রতিবারের মতো এবারও আমি অসংখ্য ভালবাসা ও শুভকামনার স্রোত পেয়েছি আপনাদের কাছ থেকে। সারাদিন সব দেখেছি, পড়েছি ও কৃতজ্ঞ হয়েছি আপনাদের প্রত্যেকের কাছে। সবাইকে আলাদা করে উত্তর দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না। তাই এই লেখায় আপনাদের সবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলাম।" তিনি আরও যোগ করেন যে, ভক্তদের এই অগাধ ভালবাসার ঋণ তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে সামান্য হলেও শোধ করার সুযোগ যেন পান।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরই পরিচালক তাঁর সেই বিশেষ সাদা-কালো ছোটবেলার ছবিটির পেছনের গল্পটি শেয়ার করেন। শৈশবের সেই নস্টালজিক দিনের স্মৃতিচারণ করে কৌশিক গাঙ্গুলি লেখেন, "এটা আমার ছোটবেলার একটা ছবি। এটার সঙ্গে অদ্ভুতভাবে সিনেমার একটা যোগ আছে। সিনেমা দেখার বায়না করলে আমার এক মামা সাইকেলের রডে লাগানো বেবি সিটে বসিয়ে, গড়িয়ার কানুনগো পার্ক থেকে পদ্মশ্রী সিনেমা হলে নিয়ে যেতেন। তখন হলের লবিতে রানিং ও আগামী সিনেমার একডজন করে ছবি বোর্ডে লাগানো থাকতো। ওগুলোকে বলা হতো 'ফটো-সেট'। মামা ওই ছবিগুলোই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাতেন আমায়। তারপর আবার বাড়ি ফেরত। বহুদিন অবধি জানতাম ওই ছবিগুলোকেই ‘সিনেমা’ বলে!"
স্মৃতির রোমন্থন করে পরিচালক আরও জানান যে, ঠিক একদিন ওই ছবি-সিনেমা দেখে ফেরার পথে, হলের ঠিক উল্টো দিকের ফুটপাতে 'স্টুডিও ভিউ' নামক একটি স্টুডিওতে নিয়ে গিয়ে তাঁর ওই সাদা-কালো ছবিটি তোলান তাঁর সেই মামা। সম্ভবত স্কুলে ভর্তির উদ্দেশ্যেই ছবিটা তোলা হয়েছিল।
পোস্টের শেষে এক অদ্ভুত বিষাদমাখা খুশির সুর ফুটিয়ে কৌশিক গাঙ্গুলি লেখেন, "স্টুডিও ভিউ এখনও আছে। সেদিন ওঁরাও জানতেন না যে, ওই পদ্মশ্রীতেই একদিন আমার ছবি বড়পর্দায় স্থান পাবে।" পরিচালকের এই সুন্দর স্মৃতিকথা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।
















