আজকাল ওয়েবডেস্ক:  শূন্য থেকে বিধানসভায় খাতা খুললেও রাজ্য রাজনীতিতে সিপিএমের ছাত্র-যুব কর্মীদের হতাশা যেন কাটতেই চাইছে না। পার্টি অফিসে তরুণ কর্মীদের অনুপস্থিতি এবং নিচু তলায় দুর্বল সাংগঠনিক ভিত্তি এখন আলিমুদ্দিনের চিন্তার প্রধান কারণ। এই হতাশার আবহ কাটিয়ে নতুন পথের সন্ধানে নদিয়ার কল্যাণীতে একটি রাজ্যভিত্তিক কনভেনশনের আয়োজন করতে চলেছে সিপিএম। যেখানে মহম্মদ সেলিমদের মতো প্রবীণ নেতৃত্ব কর্মীদের চাঙা করতে ‘ভোকাল টনিক’ দেবেন। মূলত ‘হারতে পারি কিন্তু হারিয়ে যাইনি’— এই মন্ত্রকে সম্বল করেই আবারও লড়াইয়ের ময়দানে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে লাল পার্টি। সম্প্রতি হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত আন্দোলনে কিছুটা সাফল্য আসায় সিপিএম নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে যে, একমাত্র রাজপথের জোরালো লড়াই-ই পারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং বিরোধী পরিসর পুনর্দখল করতে।

ভোটের লড়াইয়ে বেশ কিছু চেনা ও তরুণ মুখকে সামনে এনেও ভোটবাক্সে আশানুরূপ ফল মেলেনি। সাধারণ মানুষ তরুণ নেতাদের সাথে সেলফি তুললেও ভোটের দিন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, যার ফলে তরুণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা আরও গভীর হয়েছে। অন্যদিকে, দলের প্রবীণ নেতাদের বড় একটা অংশ দৈনন্দিন কোটার বাইরে রাস্তায় নামতে অনিচ্ছুক বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন পর বিধানসভায় একজন বিধায়ক পেলেও, ডোমকলের বিধায়কের 'অতি ভদ্র' ও সহজ-সরল গতিবিধি দলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শাসকদলের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর আচমকা উপস্থিতি আলিমুদ্দিনের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ফলে বর্তমানে দলের ভিতরের ও বাইরের এই ‘রোগ’ সারাতে কল্যাণীর কনভেনশন থেকেই বিশেষ টোটকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা।

আগামী দিনে কীভাবে রাস্তায় থেকে সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিতে রাজ্য জুড়েই সাংগঠনিক রিপোর্ট তলব করেছিল আলিমুদ্দিন। বেশ কয়েকটি জেলার রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের মতে, এই মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে কলেজ ভোট, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, হকার উচ্ছেদ এবং ভোটার তালিকার মতো জনস্বার্থমুখী ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে রাস্তায় নামলে তবেই সাফল্য মিলবে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যা রয়েছে একেবারে নিচু তলায়। অনেক এলাকাতেই পাড়ার পার্টি অফিসগুলোতে সিংহভাগ সময় তালা ঝোলে, নয়তো সেগুলি বয়স্কদের সান্ধ্য আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অতীতেও একের পর এক সাংগঠনিক সভা-সমিতি বা কনভেনশন হলেও ভোটের ফলাফল পাল্টায়নি। তাই কল্যাণীর এই কনভেনশন থেকে কী দাওয়াই বের হয়ে আসে এবং সেই টোটকা আদৌ ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।