নীলরতন কুণ্ডু,হুগলি: এ যেন আলোর লড়াই। কার থিমে কত জোর। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে আলোর বন্যায় ভাসল চন্দননগর। তার আগে এদিন বেলা ১০টার পর থেকেই শুরু হয় শোভাযাত্রায় অংশ না নেওয়া জগদ্ধাত্রী প্রতিমার বিসর্জন। রানীঘাট, শিববাটি ঘাট, ঢ্যাবঢ্যাবিয়া ঘাট, শ্রীমানি ঘাট ও বাবুঘাট–সহ অন্যান্য ঘাটে বিসর্জন চলে। সন্ধ্যায় শুরু হয় প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা। ভারতবিখ্যাত চন্দননগরের আলোশিল্পীরা তাঁদের আলোর জাদু তুলে ধরেন শোভাযাত্রায়। বর্ণময় এই শোভাযাত্রা দেখতে এদিন জি টি রোড এবং পালপাড়া, বিদ্যালংকার, বাগবাজার ও স্ট্যান্ড রোডের দু’‌ধারে উপচে পড়ে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড়। বাড়ির ছাদে, ফ্ল্যাটে বসেও অনেককে শোভাযাত্রা উপভোগ করতে দেখা যায়। শোভাযাত্রায় ব্যান্ডের বাজনা আর সানাইয়ের সুর ছাপিয়ে যায় দূর থেকে দূরে। কুড়কুড়ি আর ঢাকের তালে দর্শনার্থীদের মধ্যে দেখা যায় নাচের উন্মাদনা। ছৌ নাচ আর মাদলের তালে সাঁওতালি নৃত্যে মেতে ওঠে শোভাযাত্রা।
বোড় কালীতলার শোভাযাত্রায় কাশীনাথ ও গণেশ দাসের আলোয় দেখা যায় ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার বাজনা, রথ টানার দৃশ্য, ঘোড়ার গাড়ি চলার দৃশ্য ও লন্ঠন হাতে পালকি চলার দৃশ্য। মধ্যাঞ্চলের শোভাযাত্রায় ভোলানাথ দাসের আলোয় ফুটে ওঠে পাখির জলসা। কাকাতুয়া, পায়রা, টিয়া, বক, মাছরাঙা ও সারস পাখিকে দেখা যায় জলাশয়ে গান গাইতে। চারাবাগান বালক সমিতির শোভাযাত্রায় মানিক কুণ্ডুর আলোর জাদুতে দেখা যায় হ্যারি পটার কাহিনী। ফুটে ওঠে বিশাল আকৃতির ব্যাঙ, গন্ডার, সিংহ, সাপ, ময়ূর ও পেঁচার দৃশ্য। বিদ্যালংকারের শোভাযাত্রায় ছিল মনোজ সাহার ডিজনি লাইট। হাতে কাঠবিড়ালি নিয়ে জোকারের সার্কাস দেখানো, বল খেলা, বাঁদর খেলা ও টিয়াপাখির খেলা দেখানোর দৃশ্য ছিল আকর্ষণীয়। তাঁরই হাতের জাদুতে ধারাপাড়ার প্রতিমার শোভাযাত্রায় দেখা যায় হাতির পিঠে টারজানকে যেতে এবং গাছে ঝুলতে। নব সঙ্ঘের শোভাযাত্রায় প্রশান্ত ঘোষের আলোয় ফুটে ওঠে ‘‌দিদিকে বলো’‌র বার্তা। পাশেই দেখা যায় অভিযোগ জানানোর ফোন নম্বর। অম্বিকা অ্যাথলেটিক ক্লাবের শোভাযাত্রায় নিত্যানন্দ দাস আলোর কেরামতিতে তুলে ধরেন সামুদ্রিক জীবজগত। এ ছাড়াও অন্যান্য আলোশিল্পীদের ঝুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল, খাদ্য সঞ্চয়, অ্যানিমেল কার্নিভাল, শৈশব, স্বপ্নের পরি, পুতুল নাচ ইত্যাদি। সবকিছু মিলে এদিন সন্ধে থেকে চন্দননগর ছিল আলোকময়।

শোভাযাত্রায় চন্দ্রযান। ছবি:‌ সৌগত রায়

জনপ্রিয়

Back To Top