গৌতম মণ্ডল, বোটখালি (‌সাগর): সাগরের ধবলাট পঞ্চায়েতের মনসাবাজার। বাজারের পাশের দুটি গ্রাম বোটখালি ও শিবপুর। গত দু’‌দশকে সুন্দরবনের ভাঙন কবলিত এলাকার মধ্যে এই অংশটি প্রথম সারিতে। আয়লার পর থেকে ভাঙন হয়েই চলেছে। বোটখালির একটা অংশে কংক্রিটের আয়লা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। জমিজটে বাকি অংশে বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমফানের পর বোটখালি, শিবপুরের মানুষদের দুর্দশা বেড়েছে। পাশেই বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র। আমফান আছড়ে পড়ার পর থেকে সেই কেন্দ্রে দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন যৌথ রান্নাঘর শুরু হল ওই আশ্রয় কেন্দ্রে। আগামী এক মাস প্রতিদিন হাজার মানুষের পাত পড়বে এখানে। কয়েকজন চিকিৎসকের আর্থিক সাহায্যে পুরো ব্যবস্থাপনায় থাকছে সুন্দরবন পুলিশ জেলা।
গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির মন্দির থেকে দশ কিমির মধ্যে এই এলাকাটি। স্থানীয় বাগবাজার মোড় থেকে পিচ আর কংক্রিটের রাস্তা শেষ হয়েছে মনসাবাজার গঞ্জে। জায়গাটা সুন্দরবনের আর পাঁচটা গঞ্জের মতোই। রেশন, মোবাইল, চা, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টির দোকান আছে। আমফানের পর ১২ দিনের মাথায় গঞ্জে বিদ্যুৎ এসেছে। ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস এলেই এখানাকার মানুষকে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। এবারেও আমফানের আগেও গঙ্গাসাগর উপকূল থানার পুলিশ মাইক দিয়ে প্রচার শুরু করে। কয়েক হাজার বাসিন্দাকে দ্রুত তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওসি দেবাশিস রায় এখানকার মানুষদের কাছে খুব জনপ্রিয়। আমফানের তাণ্ডবের বর্ণনা করতে গিয়ে বোটখালির কথা শুরু করলেন। আমফানের দিন তখন বেলা সাড়ে বারোটা। ঝড়ের গতি তখন ঘণ্টায় একশ কিমির বেশি। শেষবারের জন্য বোটখালিতে ঢুকলেন দেবাশিস। কেউ বাড়িতে আছেন কিনা শেষবার দেখে নিচ্ছেন। দেখলেন একটি কাঁচাবাড়িতে দুই শিশুকে নিয়ে আঁকড়ে ধরে আছেন মা। বাইরে সোঁ সোঁ আওয়াজ। শিশু দুটি তখন ঝড়ের বেগে দাঁড়াতে পারছে না। প্রায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জোগাড়। দেবাশিস বাকি পুলিশ কর্মীদের ডাকলেন। তারপর মা ও দুই শিশুকে কার্যত ঘিরে নিয়ে বাঁধ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে তুলে দিয়ে আসেন। দেবাশিসের কথায়,‘ঠিক সময় পৌঁছতে না পারলে মা–‌‌সহ দুই শিশুকে বাঁচানো যেত না। শিশু দুটিকে উড়িয়ে নিয়ে চলে যেত। সুন্দরবনে এতদিন কাজ করছি। কিন্তু এই ঝড় কোনওদিন দেখিনি!‌’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top