বিজয়প্রকাশ দাস, পূর্ব বর্ধমান, ১৮ নভেম্বর- হস্টেল থেকে এক নার্সিং ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানে। মৃতের নাম রিয়া দে (১৯)। শহর পূর্ব বর্ধমানের ছোটনীলপুর মালিরবাগান সংলগ্ন নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের হস্টেলে প্রথম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন রিয়া। তঁার বাড়ি বাঁকুড়ায়। গত অক্টোবর মাস থেকেই তঁার ক্লাস শুরু হয়েছিল। এই মৃত্যুর খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নার্সিং হস্টেলে এসে অন্য ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ অমিতাভ সাহা। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট পুলিশ উদ্ধার করেছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে এই বাঁকুড়ারই সমাপ্তি রুইদাস নামে নার্সিং পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছিলেন। 
বর্ধমানের ওই নার্সিং কলেজের সিনিয়র সিস্টার অ্যান্ড টিচার রিতা চাটার্জি জানান, রিয়ার আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়নি। এদিন সকালে অন্য ছাত্রীরা ক্লাসে আসার পর দেখেন রিয়া আসেননি। তখন অন্য ছাত্রীরা তঁাকে তঁার হস্টেলের ঘরে ডাকতে যান। দেখতে পান, ভেতর দিয়ে দরজা বন্ধ আছে। তখন সহপাঠীরা চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় মানুষ ছুটে এসে দরজা ভেঙে দেখেন, রিয়া ওড়না দিয়ে ঝুলছেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয়েছে বর্ধমান থানায়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ অমিতাভ সাহা ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। 
পুলিশ জানিয়েছে, সুইসাইডে নোটে ছাত্রীটি তাঁর পরিবার সম্পর্কে নানান কথা লিখেছেন। লিখেছেন তঁার বোন যাতে বড় হয়ে জীবনে বাবা–মা’র মুখ উজ্জ্বল করে। ভাই যেন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। পাশাপাশি নোটে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ভাবে সুযোগ দেওয়ায় সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা প্রকৃত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি নার্সিং পরিকাঠামো ও সরকারি পদ্ধতির প্রতিবাদ করেছেন।

ছাত্রী রিয়া দে।

জনপ্রিয়

Back To Top