‌দীপেন গুপ্ত: বিভিন্ন দেশের ১৮ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে পিছনে ফেলে নাসায় যাচ্ছে পুরুলিয়ার নবম শ্রেণির ছাত্রী অভিনন্দা ঘোষ। এই দেশ থেকে মাত্র দু’‌জন পরিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে নাসাতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। তার মধ্যে একজন হল পুরুলিয়ার মেয়ে অভিনন্দা। সে পুরুলিয়ার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। অভিনন্দা ক্লাস ফোর থেকেই আন্তর্জাতিক সায়েন্স অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি নিয়েছিল। 
বাবা–মা, দু’‌জনেই শিক্ষকতা করেন। খুব ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব মেধাবী এই কৃতী ছাত্রী। ক্লাস এইটে থেকেই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড সায়েন্সে সে নির্বাচিত হয়েছে আসছে। কয়েক মাসের মধ্যেই অভিনন্দা নাসায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নেবে। তার এই সাফল্যে বাবা–মা ও পুরুলিয়াবাসী সকলেই গর্বিত। ইতিমধ্যে তার বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পালা শুরু হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে পুরুলিয়া পুরসভার কাউন্সিলর সোহেল দাদ খান অভিনন্দার বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা দিয়ে আসেন। মেয়ের সাফল্যে খুশি তার বাবা–মা। উচ্ছ্বসিত তার স্কুলের শিক্ষকরাও। 
মা সুস্মিতা রায়চৌধুরি বলেন, ‘‌মা হিসাবে এ আমার পরম প্রাপ্তি অবশ্যই। কিন্তু আমি আনন্দিত আরও একটি কারণে। সবসময় শুনে থাকি আমার জেলা পুরুলিয়া পিছিয়ে পড়া। সেই পিছিয়ে পড়া জেলার মেয়ে হয়েও অভিনন্দার সাফল্য প্রমাণ করেছে, এই পিছিয়ে পড়া তকমাটা এবার বাতিল করার সময় হয়ে গেছে। শুধু আমার মেয়ে নয়, আমাদের জেলার নানা প্রান্তের ছেলে–মেয়েদের সাফল্য তো কারও চেয়ে কম নয়। কোনও কোচিং ক্লাস ছাড়াই শুধুমাত্র নিজে পড়ে যে সফল হওয়া যায়, তা প্রমাণ করেছে মেয়ে।’‌ বাবা সজল ঘোষ বলেন, ‘‌আমাদের জেলায় তেমন কোনও সুযোগ–সুবিধা নেই। তার পরও মেয়ে সাফল্য পেয়েছে। আমাদের আশা সে আগামীতেও আরও ভাল কিছু করবে।’‌ ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top