দীপঙ্কর নন্দী: বাংলায় আর্থিক সঙ্কট চলছে। কেন্দ্রের কাছে করোনা মোকাবিলার জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকা চেয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এ ছাড়া আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা বাংলার বকেয়া রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই সব জানিয়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ মকুবের আর্জি জানিয়েছেন সুদীপ ব্যানার্জি। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার দলনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। নবান্নতে গিয়ে সুদীপ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও সুদীপের কথা হয়েছে। সুদীপ প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, সাংসদ তহবিলের টাকা ২ বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হবে। চরম আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে মমতা ব্যানার্জি বাংলার উন্নয়ন করছেন। সাংসদ তহবিলের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার আগে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সুদীপ অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, সাংসদদের বেতন থেকে যে পরিমাণ টাকা কাটা হচ্ছে তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। বাংলার পাওনা আপনি তাড়াতাড়ি মিটিয়ে দিন। এটা করোনার চিকিৎসায় কাজে লাগবে। সুদীপ এদিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন লকডাউন কতদিন চলবে?‌ করোনা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?‌ দেশের মানুষ আগামী দিনে আপনার পরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে আছে। লকডাউনের ব্যাপারে দেশ কতটা প্রস্তুত সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সুদীপ। 
সুদীপ প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বাংলায় করোনা মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, স্যানিটাইজার দরকার। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। আপনি চাহিদা মতো ব্যবস্থা করুন। অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য আর্থিক প্যাকেজও করা দরকার। শ্রমিকরা ছাঁটাই হওয়ার ভয় পাচ্ছেন। সুদীপ বলেছেন, গোটা বিশ্বে এই রোগ ছড়িয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে আর্থিক পরিস্থিতি জানিয়ে সাহায্যের জন্য চিঠিও দিয়েছেন।‌ কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের থেকে কোনও সাহায্য আসেনি। ভিডিও কনফারেন্সের পর সুদীপ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রীকে যা বলার বলেছি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে করোনা প্রতিরোধের জন্য লড়াই করছেন তা আগামী দিনে মডেল হয়ে থাকবে। চিকিৎসকরা সাহায্য করছেন। বাংলায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। ঘরে থাকতে হবে। সুস্থ থাকতে হবে। মমতা বলেছেন, এই লড়াইয়ে জিততে হবে। বিভিন্ন দেশ থেকে খবর আসছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।’‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top