আজকালের প্রতিবেদন
শিলিগুড়ি, ৩০ সেপ্টেম্বর

পাহাড়কে তিনি কখনওই বঞ্চিত করেননি। বরাবরই জানিয়ে এসেছেন, পাহাড়ের স্থান তঁার হৃদয়ে। বুধবার দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহার জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সেই প্রিয় পাহাড়ের উন্নয়নে ১৭৫ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল জিটিএ প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপার হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আপাতত ১৫০ কোটি দেওয়া হল। খুব দ্রুত বাকি ২৫ কোটি দেওয়া হবে। এছাড়াও পাহাড়ের ৬৪ ফরেস্ট ভিলেজকে রেভিনিউ ভিলেজে রূপান্তরিত করার ছাড়পত্রও দেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে এই গ্রামগুলোতে পাট্টা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর প্রশাসনিক কোনও বাধা থাকল না।
শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে অনীত থাপার কাছে পাহাড়ের পরিস্থিতি জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। অনীত জানান, চা–বাগানের পরিস্থিতি ভাল। পর্যটনে ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এখন পর্যটকদের বাইরে না গিয়ে পাহাড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’‌ অনীতও জানিয়ে দেন, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে তঁারা তৈরি। ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও জমির কাগজের দাবির বিষয়টি তুলে ধরেন মোর্চা সভাপতি বিনয় তামাং। দার্জিলিং ও কালিম্পঙে নতুন মহকুমা ও ব্লক গঠনের দাবি জানান বিনয়। পাশাপাশি দার্জিলিং পুরসভাকে পুরনিগমে উন্নীত করার দাবিও তোলেন তিনি। বিনয়ের বক্তব্যে গুরুত্ব পায় জিটিএ–র অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের প্রসঙ্গও। স্থায়ীকরণের বিষয়টি নিয়ে পরে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং হিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের নাম ঠিক হয়েছে বলেও এদিন জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিনয় তামাং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, সিকিমের গাড়ি বাংলায় চলাচল করলেও বাংলার গাড়িকে সিকিমে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। এনিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে চুক্তি রয়েছে। প্রয়োজনে ফের কথা হবে বলে বিনয় তামাংকে আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কালিম্পঙে গ্রাহামস হোমসের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংস্কারের সূচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাহাড়ের পাশাপাশি এদিন জলপাইগুড়িতে মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে জলপাইগুড়িবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্য ১০৪ একর জমির নথিপত্র বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নতুন করে ফের ১৬১ জন আত্মসমর্পণকারী কেএলও সদস্য ও লিঙ্কম্যানকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগপত্র দেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহার মদনমোহন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের হাতে পুরোহিত ভাতা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও রাজবংশী ভাষা আকাদেমির জন্য পঁাচ কোটি টাকা ও রাজবংশী ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ডের জন্য গিরিজাশঙ্কর রায়ের হাতে ১০ কোটি টাকা তুলে দেন। কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ মহারাজা জিতেন্দ্রনারায়ণের নামে করার পাশাপাশি কোচবিহারের গোসানিমারিতে কামতেশ্বরী মন্দিরের সংস্কার কাজের সমাপ্তিও ঘোষণা করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। মাথাভাঙায় পঞ্চানন বর্মা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসেরও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top