সঞ্জয় বিশ্বাস
এনআরসি নিয়ে তো পাহাড়বাসীর তীব্র বিরোধিতা আছেই। এবার ক্যাব (‌সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল)‌ নিয়েও সরব হল বিনয়পন্থী মোর্চা। গোর্খাদের অনুপ্রবেশকারী বলার পরও দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত কেন চুপ ছিলেন, সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন সাংসদ এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুল জ্বালানো হল চকবাজারে। এখানেই শেষ নয়। এনআরসি ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করলেন বিনয় তামাং ও অনীত থাপা। সেখানে পাহাড়ের সমস্ত কেন্দ্রীয় অফিস ঘেরাওয়েরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অসমে এনআরসি চালু করায় প্রায় ১ লক্ষ গোর্খার নাম বাদ পড়ে যাওয়ার পর থেকেই দার্জিলিং পাহাড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় অসমের গোর্খাদের অনুপ্রবেশকারী বলা হয়। সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পাহাড়বাসী। গোর্খাদের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় খোদ বিমল গুরুং গোষ্ঠীও প্রতিবাদ করে। কিন্তু এত কিছুর পরেও দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত সেই সময় কোনও মন্তব্য না করে চুপ করে ছিলেন। সেই ঘটনায় আবার নতুন করে প্রতিবাদ শাণিত হয়েছে। 
এদিন দার্জিলিঙের চকবাজারে মোর্চার নেতা–কর্মীরা অমিত শাহ ও রাজু সিং বিস্তের কুশপুতুল জ্বালিয়ে জানিয়ে দেন, এনআরসি হোক বা ক্যাব, এই সব অকারণ জটিলতা থেকে গোর্খাদের বাইরে রাখতে হবে। এবং গোর্খাদের অনুপ্রবেশকারী বানানোর জন্য অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে। তা নিয়ে এদিন পাহাড় বেশ সরগরম হয়ে ওঠে।
এদিন শিলিগুড়ি–লাগোয়া পিনটেল ভিলেজে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মোর্চা সভাপতি বিনয় তামাং ও জিটিএ প্রশাসক অনীত থাপা। এনআরসি ও ক্যাব–এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জোরালো করার জন্য তাঁরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জানান, ‘‌১১ ডিসেম্বর পাহাড়ের দুটি জেলাশাসকের দপ্তর ও দুটি মহকুমা শাসকের দপ্তরে প্রতীকী ধর্না হবে। ১৯ ডিসেম্বর দুই জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জিটিএ এলাকার সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর 
ঘেরাও করা হবে।’‌ বিনয় তামাং বলেন, ‘‌আমরা প্রতিবাদ করব, কিন্তু সব প্রতিবাদ হবে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top