রিনা ভট্টাচার্য 
২০ হাজার শিবির খুলে আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘‌দুয়ারে সরকার’‌ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। সোমবার নবান্নে মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা যাঁরা পাননি বা আবেদন করেননি, তাঁরা যাতে নানা প্রকল্পের সুবিধা পান, সেজন্যই এই পদক্ষেপ।
এই কর্মসূচির আওতায় গ্রামপঞ্চায়েত ও পুরসভার ওয়ার্ডভিত্তিক শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্য জুড়ে এমন ২০ হাজার শিবির বসবে। গ্রামাঞ্চলে বিডিও–রা এবং শহরাঞ্চলে মহকুমা শাসকেরা এই শিবিরে আসা প্রতি ব্যক্তিকে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতন করবেন। কোনও পরিষেবা সম্পর্কে সুবিধাপ্রাপকদের কোনও প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দেবেন। শিবিরে কম্পিউটার নিয়েই সরকারি কর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁরাই প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে আবেদনকারীর ফর্ম ফিলআপ করিয়ে দেবেন।
মুখ্য সচিব বলেন, ‘‌৪ দফায় এই কর্মসূচি রূপায়িত হবে। প্রথম দফা চলবে ১ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফা চলবে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর। তৃতীয় দফা চলবে ২০২১ সালের ২ থেকে ১২ জানুয়ারি। চতুর্থ দফা চলবে ১৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি। প্রথম রাউন্ডেই যাঁরা সব কিছু সঠিক কাগজপত্র দিয়ে দেবেন তাঁরা দ্বিতীয় রাউন্ডে পরিষেবা পেয়ে যাবেন। যাঁরা দ্বিতীয় রাউন্ডে বকেয়া কোনও তথ্য দেবেন তাঁরা তৃতীয় রাউন্ডেই সঠিক পরিষেবা পেয়ে যাবেন।’‌
মুখ্য সচিব জানান, জেলাশাসক থেকে বিডিও পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকের সঙ্গে বারবার বৈঠক করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কীভাবে কাজ হবে। এদিনও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয় এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের ১০টি প্রকল্পকে এই কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়েছে, সেগুলি হল— স্বাস্থ্যসাথী, শিক্ষাশ্রী, খাদ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, জাতিগত শংসাপত্র, কৃষকবন্ধু, ‌জয় জোহার‌ ও ১০০ দিনের কাজ।
এই ১০টি সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে কী কী কাগজপত্র লাগবে তা নির্দিষ্ট করে দিতে পদ্ধতি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। শিবিরের পাশেই প্রদর্শনী করে সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে এইসব প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে কোন কোন তথ্য লাগবে। লোকপ্রসার শিল্পের অন্তর্গত শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করবেন। যদি কোনও আবেদনকারীর কাছে সঠিক কাগজপত্র না থাকে তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে দেবেন কী কাগজ লাগবে এবং ওই কাগজ কোথা থেকে পাওয়া যাবে। পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রেও বুঝিয়ে দেওয়া হবে কোন প্রকল্পে কী পরিচয়পত্র লাগবে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যদি কারও অভিযোগ থাকে তাও এই শিবিরে সমাধান করা হবে। ‘‌খাদ্যসাথী’‌র ক্ষেত্রে রেশন কার্ডের নাম পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তনের কাজও এখানেই হবে।
মুখ্য সচিব জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সবার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নগদবিহীন এবং বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার জন্য এই বিশেষ স্মার্টকার্ড পেতে এই শিবিরে আসতে হবে। প্রথম দফায় সব কাগজপত্র দিলে দ্বিতীয় দফায় স্মার্টকার্ড পাওয়া যাবে।
পঞ্চায়েত দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এম বি রাও জানিয়েছেন, রাজ্যে এখন ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবারের কাছে জব কার্ড রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই ছেলে বড় হয়েছে। তাঁরা বিয়ে করে নতুন সংসার পেতেছেন। সেক্ষেত্রে সেই পরিবার নতুন জব কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাঁরা যদি চান তাহলে জব কার্ড পাবেন। এমনকী কেউ যদি ১০০ দিনের কাজ করতে চান তাহলে আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যেই যাতে কাজ পান, তার ব্যবস্থা করা হবে।
এই কর্মসূচি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‘‌এগিয়ে বাংলা’‌ ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে সব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর, অর্থ দপ্তর–সহ রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের সচিবরা শিবিরের ওপর নজর রাখবেন। কত মানুষ আসছেন, কত অভিযোগ জমা পড়ছে, তার সমাধান সঠিক সময়ে হচ্ছে কি না সেদিকে নজর রাখা হবে। এ ছাড়াও ২১ জন সিনিয়র আইএএস অফিসারকে প্রতিটি জেলার নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের অধীনে থাকছে টাস্ক ফোর্স। সেই টাস্ক ফোর্সও শিবিরের ওপরে নজর রাখবে।

জনপ্রিয়

Back To Top