গৌতম মণ্ডল ও গৌতম চক্রবর্তী, কাকদ্বীপ ও গোসাবা: আমফানে বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্নির্মাণের ওপর জোর দিল জেলা প্রশাসন। শুক্রবার কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের দপ্তরে বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক পি উলগানাথনের পৌরোহিত্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা। ছিলেন কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক শৌভিক চ্যাটার্জি, ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক সুকান্ত সাহা–‌সহ সেচ, পূর্ত, কৃষি, উদ্যান পালন, মৎস্য, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিকরা। 
এদিনের বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ জানার একটা প্রাথমিক চেষ্টা করা হয়। প্রত্যেক দপ্তরের আধিকারিকদের বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার জেলাশাসক সাগরের বেশ কিছু বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে রুদ্রনগরে বিডিও অফিস থেকে দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাঁচা ও পাকা বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। আড়াই লক্ষের বেশি গাছ ভেঙে বা উপড়ে গিয়েছে। ৩৫ হাজারের বেশি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গিয়েছে। কাকদ্বীপ শহরের একটি অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করা গিয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ করছেন বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম লিমিটেডের কর্মীরা। মোবাইলের নেটওয়ার্ক এখনও আসেনি। পঞ্চাশের বেশি এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। বাঁধ উপচে নোনা জল ঢুকেছে বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ৩ লক্ষের বেশি মানুষকে দেড় হাজার ত্রাণ শিবিরে তুলে আনা হয়েছে। এখানে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জেলায় এক লক্ষ তার্পোলিন দুর্গতদের দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। চাল ও জামাকাপড় দেওয়ার কাজও চলছে। এদিনের বৈঠক থেকে ত্রাণের কাজে আরও গতি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি মোবাইল, বিদ্যুৎ পরিষেবা দ্রুত ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাকদ্বীপ মহকুমার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার মহকুমা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার–‌‌১ ও ২ নম্বর ব্লক, পুরসভা এলাকায় একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়েছে। প্রচুর বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ উপড়ে পড়েছে। শহর লাগোয়া হুগলি নদীর বাঁধের ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। এখনও শহর বিদ্যুৎহীন। অন্যদিকে কাকদ্বীপ মহকুমার সবকটি ব্লকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সাধ্যমতো ঘর গেরস্থালি পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। নোনা জলে প্লাবিত মিষ্টি জলের পুকুরে মরা মাছ ভেসে উঠছে। মরা মাছ, পচা পাতার গন্ধে গ্রামে গ্রামে দূষণ ছড়ানো শুরু করেছে। 
এই ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে সুন্দরবনের জঙ্গলেও। জঙ্গলের ধারে ফেন্সিং এবং জাল ছিঁড়ে গেছে। তাই জঙ্গল সংলগ্ন সুন্দরবনের গোসাবায় জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝড়ে সর্বস্ব হারিয়েও মানুষ বাঘ আতঙ্কে ভুগছেন। যদিও বনদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top