যজ্ঞেশ্বর জানা, দিঘা, ১৩ আগস্ট- চাহিদা থাকলেও এবার জোগান নেই ইলিশের। ভরা মরশুমেও তাই ইলিশের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে মধ্যবিত্তের। এই সময় প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন মাছের বাজারগুলোতে ইলিশের ঝিলিকে ভরে উঠলেও এবার পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় কমছে না দাম। তাই বর্ষার মরশুমেও পাতে নেই ইলিশ। বাঙালির মন তাই বিষণ্ণ৷ বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জোগান না থাকায় বাজারে ইলিশের দাম চড়া। বর্ষা–সঙ্কটে এবার শুরু থেকেই ইলিশের অভাবে ধুঁকছে মাছের বাজারগুলো৷ 
এতদিন চাহিদা মিটছিল হিমঘরের ইলিশ দিয়েই৷ কিন্তু তাতে থলে ভরলেও জিভ ভরছিল না৷ তাজা ইলিশের স্বাদ না পেয়ে মনও ছিল খুঁতখুঁতে৷ আর এখন তাজা ইলিশ বাজারে এলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে তার দাম। মঙ্গলবার দিঘা মোহনার মৎস্য নিলাম কেন্দ্রে উঠেছে ১০ টন ইলিশ। লঞ্চ–ট্রলার থেকে নামানো টাটকা ইলিশ পাওয়া যায় রাজ্যের বড় এই আড়তে। একটু দামাদামি করে পাইকারদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতারাও কিনে নেন ইলিশ। কিন্তু এদিন টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে মাছ কিনতে এসে অনেক ভোজনবিলাসীকে দামের কারণে ফিরে যেতে হয়েছে। এদিন খুব ছোট অর্থাৎ ৪০০–৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল ৬০০–৭০০ টাকা। আর তার চেয়ে একটু বড় ইলিশের দাম ছিল ১০০০–১২০০ টাকা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারগুলোতেও। দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর্তা নবকুমার পয়ড়্যা বলেন, ‘‌আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন এই চার মাস ইলিশ মরশুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন শ্রাবণ মাস শেষের দিকে হলেও ইলিশ মিলছে খুবই কম। যা মিলছে তার দাম আকাশছোঁয়া।’‌
চতুর্থ দফার দুর্যোগ কাটিয়ে ৯ আগস্ট থেকে নতুন করে লঞ্চ–ট্রলার ভাসিয়েছিলেন কিছু মৎস্যজীবী। দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে আবার সোমবার রাতের মধ্যে ফিরে এসেছেন তাঁরা। আর তাঁদেরই জালে উঠেছে এই ১০ টন ইলিশ। মৎস্যজীবীরা বলেন, ‘‌নামেই যেন বর্ষার মরশুম। বৃষ্টির দেখা নেই। তাই ইলিশ মাছের তেমন আনাগোনা দেখা যাচ্ছে না।’‌ আর সে–কারণে যা আছে দামের তাপে তার পাশে ভিড়তে পারছেন না মধ্যবিত্তরা।

ইলিশ, দিঘা মোহনার আড়তে। মঙ্গলবার সকালে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top