আজকালের প্রতিবেদন, বসিরহাট, ১১ নভেম্বর- অন্যদিনের মতো দিদার সঙ্গে ঘুমোতে গিয়েছিল কৃশানু দাস। একই বিছানায় দিদিমা ও নাতি পাশাপাশি ঘুমিয়েছিলেন। সেই নাতি ভাবতেই পারছে না দিদিমার ঘুম আর কোনওদিন ভাঙবে না। নাতি ভাবতেই পারছে না সে এখনও বেঁচে আছে। বসিরহাটের শসিনা হাটখোলার আগের পাড়াটাকে এক মৃত্যুতে নিঝুম করে দিয়ে গেছে। নিজের ঘরের মধ্যে উঠোনের শিরীষ গাছ চাপা পড়ে শনিবার ভোর রাতে মৃত্যু হয় রেবা বিশ্বাসের। রেবাদেবীর মৃত্যুতে গোটা পরিবার যেমন শোকে পাথর, তেমনই আশ্চর্যজনক ভাবে রেবাদেবীর নাতি কৃশানুর বেঁচে যাওয়ায় সকলেই অবাক। 
কৃশানু রেবাদেবীর নাতি। কৃশানুর বাবা নেই। কাজের সূত্রে মা থাকেন অশোকনগরে। তাই দাদু–‌দিদিমার কাছেই থাকে কৃশানু। দাদু ও মামা রান্নার কাজ করেন। তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না। শনিবার ঝড়ের রাতে দিদিমার পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে কৃশানু। শেষ রাতে আচমকা ঝড়ের দাপটে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে বিশাল শিরীষ গাছ। তার তলায় চাপা পড়ে কৃশানু ও তার দিদিমা। কৃশানুর চিৎকারে পাড়ার লোকজন, আত্মীয়রা ছুটে এসে দেখেন, দু‌জনেই চাপা পড়ে আছে, ওপরে বিশাল গাছ। নিহত রেবাদেবীর দেওর রাম বিশ্বাস বলেন, ‘‌চিৎকার শুনে ছুটে আসি। দেখলাম বউদি ও নাতিটা গাছের গুঁড়ির তলায় চাপা পড়ে রয়েছে। আমি আর কয়েকজন মিলে কৃশানুকে টেনে বার করি। ওর কোনও চোট লাগেনি আশ্চর্যজনক ভাবে। তবে বউদিকে যখন বার করি, তখন তার আর প্রাণ নেই।
এদিনও কৃশানুর চোখে–‌মুখে আতঙ্ক। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠছে। কৃশানু বলে, ‘‌জানিনা কী করে বাঁচলাম। গাছটা আমার গায়ে সেভাবে স্পর্শ করেনি। কিন্তু বেরতে পারছিলাম না। তখন চিৎকার করি। আমার দিদার শরীরের ওপর গাছটা চেপে বসেছিল। দিদা আর বাঁচল না।’‌ রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুমের ঘোরে কেঁপে উঠছে কিশোর কৃশানু। দিদা যে ছিল  তার বড় আশ্রয়।  

আতঙ্কিত কৃশানু দাশ। ছবি:‌ স্বদেশ ভট্টাচার্য‌

জনপ্রিয়

Back To Top