শ্রাবণী গুপ্ত:‌ জোট নিয়ে জট ছিলই। এবার জোটের বদলে সেই জটই প্রকাশ্যে এল ব্রিগেডের মঞ্চে। বামেদের বারবার ‘‌বন্ধু’‌ বললেন। কিন্তু কংগ্রেসের জন্য একটা শব্দও খরচ করলেন না ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের আব্বাস সিদ্দিকি। উল্টে হুঁশিয়ারি দিলেন, তিনি কাউকে তুষ্ট করতে এখানে আসেননি। হক ছিনিয়ে নেবেন। পাল্টা সভা শেষ হওয়ার আগেই মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরি। চেষ্টা করলেও খুব বেশি সফল হল না ‘‌রেফারি’‌ বাম।
ব্রিগেডে সভার আগের রাত পর্যন্ত আসন সমঝোতা চলেছে কংগ্রেস, বাম আর আইএসএফ–এর। তবু রফাসূত্র অধরা। স্থির হয়েছে, সোমবার এই নিয়ে ফের বৈঠকে বসবে জোটের তিন শরিক। তবে এদিন মঞ্চে উঠেই আব্বাস সিদ্দিকি জানিয়ে দিলেন, বামেরা তাদের ৩০টি আসন দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে একবারও যদিও কংগ্রেসের নাম নেননি।
আর এতেই বেঁধেছে গোল। খবর, কংগ্রেস কোনও ভাবেই সিদ্দিকির দলকে ৩০টি আসন ছাড়তে চায় না। অধীরদের দাবি, আইএসএফ–কে ৩০টি আসন ছাড়া হলে তাদের আরও বেশি আসন দিতে হবে। 
এসবে যদিও কান দিতে নারাজ আব্বাস সিদ্দিকি। তিনি মঞ্চে উঠে এই নিয়েই প্রায় হুঁশিয়ারিই দিলেন, ‘‌ভিক্ষা চাই না। আমরা অংশীদারি করতে এসেছি, তোষণ করতে নয়। হক বুঝে নিতে হবে।’‌ এখানেই থামেননি তিনি। আসন রফায় দেরি নিয়েও প্রকাশ্য মঞ্চেই মুখ খুললেন তিনি। বললেন, ‘‌আর এক সপ্তাহ আগে যদি এই সমঝোতা হত, তা হলে এর দ্বিগুণ মানুষের জমায়েত করে দেখিয়ে দিতাম আমরা। কারণ মমতার ওপর মানুষ ক্ষিপ্ত।’‌
এই যে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর বিরোধ, সেটা কিন্তু তিনি মঞ্চে উঠতেই প্রকাশ্যে আসে। আব্বাস মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নামে ধ্বনি দিতে থাকে সমর্থকরা। তখন ডায়াসে বক্তৃতা করছেন অধীর। মাঝপথেই থামিয়ে দেন কথা। মঞ্চে উঠে সকলের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন আব্বাস। কিন্তু একবারের তরেও কথা বলেননি অধীরের সঙ্গে। ডায়াস ছেড়ে নেমে যেতে উদ্যত হন অধীর। তাঁকে এসে বোঝান বিমান বসু, সেলিমরা। শেষে আব্বাস তাঁর কানে এসে ফিসফিস করে কিছু একটা বলেন। তখনই শান্ত হন কংগ্রেস সাংসদ। ফের বক্তৃতা শুরু করেন।
এমনকী বিরোধের এই রেশ ছিল শেষেও। সবাই একে অপরের হাত ধরে উঠে দাঁড়ান। তখনও মঞ্চের এক প্রান্তে আব্বাস। অন্য প্রান্তে অধীর। আবার মহম্মদ সেলিমও ইঙ্গিত দেন, ২০১৯ সালে বাম ভোট কংগ্রেসে পড়লেও কংগ্রেসের ভোট বামেদের দিকে আসেনি। এবার যাতে সেই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই আশাই প্রকাশ করলেন তিনি। 
বাম নেতারা উচ্ছ্বসিত ভিড় দেখে। তাঁদের দাবি, ১০ লাখের কাছাকাছি লোক হয়েছে। আপাতভাবে ব্রিগেড সভা যে লোক টানতে সফল, তা মানছেন এক কথায় সকলেই। তবু প্রশ্ন একটা রয়েই যাচ্ছে, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে যে জোট তৈরি হল, কতদিন টিকবে সেই জোট?‌ তার ভবিষ্যৎই বা কী?‌

জনপ্রিয়

Back To Top