প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়: রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ব্রিজ অ্যান্ড রুফ বিক্রি রুখতে শ্রমিকরা এককাট্টা হয়ে লড়বেন। কোনওভাবেই কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প সংস্থার অধীনস্থ লাভজনক এই সংস্থাকে বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। বলছেন এখানকার শ্রমিক–‌কর্মচারীরা। সোমবার সংসদে অর্থ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এতে  শ্রমিক–‌কর্মচারীদের মধ্যে তোলপাড় পড়ে যায়। তাঁদের প্রশ্ন, মিনিরত্নে ভূষিত লাভজনক এই সংস্থা কেন বিক্রি করতে চাইছে কেন্দ্র? শ্রমিকরা বলেন, এখনও এই সংস্থার হাতে সারা দেশের প্রচুর কাজের বরাত। সাঁতরাগাছি স্টেশনে কনস্ট্রাকশনের কাজ করছে এই সংস্থাই। ব্রিজ তৈরি করছে লাদাখ, সিয়াচেনে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে নানা নির্মাণের কাজ করেছে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ। কাজ করেছে সায়েন্স সিটি, জাতীয় সড়ক তৈরিতে। গত আর্থিক বছরেও ৩৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০১৬–‌১৭ সালে ২৭ কোটি টাকা, ২০১৭–‌১৮ সালে ২৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। প্রতি বছরই লাভের মুখ দেখছে। ২০১৭–‌১৮ সালে টার্ন ওভার ছিল ২০৫৬ কোটি টাকা। ২০১০ সালে মিনিরত্নের স্বীকৃতি পায়। এই মুহূর্তে ১২৫০ জন স্থায়ী কর্মী। এছাড়াও প্রায় ৩০০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মী। ২০–‌২২ হাজার মানুষের রুটিরুজি জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে।  চরম অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে তাঁদের মনে। 
মঙ্গলবার হাওড়ার ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেল, মনমরা হয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরা। এরকমই একজন শ্যামল জানা। উত্তরপাড়ায় বাড়ি। ৫ বছর চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছেন। বললেন, ‘এখানে রেলের ওয়াগন, ইস্পাতের সেতুর কাঠামো, বড় বড় কনস্ট্রাকশনের কাজ হয়। এই সংস্থা বিক্রি হয়ে গেলে আমরা কোথায় যাব?‌ সংসারটাই ভেসে যাবে।’ শ্রমিকরা কেন্দ্রের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই লড়ছেন। ‘ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কোম্পানি বাঁচাও কমিটি’ তৈরি করে আন্দোলন শুরু করছেন। কলকাতায় সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সামনে হয়েছে রিলে অনশন, বিক্ষোভ কর্মসূচি। সিটু অনুমোদিত ব্রিজ অ্যান্ড রুফ এমপ্লইজ ইউনিয়নের নেতা কমল বিশ্বাস বলেন, ‘লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার এই সংস্থাকে বিক্রি করতেই বিলগ্নীকরণ করতে চাইছে। এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকরা এককাট্টা হয়ে লড়বেন। রাস্তায় নামবেন। চলবে আইনি লড়াইও।’ আইএনটিইউসি–‌র নেতা ফাল্গুনী ঘোষ বলেন, ‘দু–‌‌একদিনের মধ্যে সমস্ত শ্রমিক সংগঠন আলোচনায় বসে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করবে। যে সংস্থার হাতে এত কাজের বরাত, প্রতি বছরই মুনাফা করছে, তাদের কেন বিক্রি করতে চাইছে কেন্দ্র?‌ আসলে সরকারের কোষাগার শূন্য। টাকা চাই। তাই এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যেই আমরা প্রধানমন্ত্রী–‌সহ বিভিন্ন মন্ত্রকে প্রতিবাদ জানিয়েছি।’ সরব তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনও। সংগঠনের হাওড়া জেলা সভাপতি অরূপেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বিষয়টি জানিয়েছি। সংসদে আমাদের সাংসদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করছেন। শিগগিরই শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে লাগাতার আন্দোলনে নামব।’ সংস্থার হাওড়া ওয়ার্কশপের বাইরে দোকানদারদেরও মন খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বেলের শরবত বিক্রি করেন জুনেদ আলম। জানালেন, গরমের সময় ৫–‌৬ মাস দিনে ৪০০ গ্লাস শরবত বিক্রি হয়। কর্মীরাই খরিদ্দার। তাঁরা কাজ হারালে তাঁর সংসারেও অন্ধকার নেমে আসবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top