নিরুপম সাহা, ‌বাদুড়িয়া: নোটবন্দির জেরে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী রবীন্দ্রনাথ মুখার্জিকে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার ঘোষপুর ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা রবীনবাবুর মৃত্যুর পর থেকে তঁার বাড়ি তালাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই বাড়ি এখন শুধু তঁার স্মৃতি বহন করে চলেছে।
রবীন্দ্রনাথ মুখার্জি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। একমাত্র কন্যা কাকলি মুখার্জি বিবাহসূত্রে রাজারহাটে থাকেন। স্ত্রী প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। ফলে, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকে ঘোষপুরের বাড়িতে একাই থাকতেন। রান্নার জন্য একজন লোক রাখা ছিল। ফলে, বাকি কাজ নিজেকেই সামলাতে হত। অবসরের পর পেনশনের টাকাতেই সংসার চলত। প্রতি মাসে হাবড়ার স্টেট ব্যাঙ্কের মছলন্দপুর শাখায় গিয়ে টাকা তুলে আনতেন। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর রাতে নোটবন্দির খবর প্রচার হতেই পরদিন থেকে দেশ জুড়ে হইচই পড়ে যায়। ব্যাঙ্কগুলিতে লম্বা লাইন পড়তে শুরু করে। এক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন বয়স্করা। রবীন্দ্রনাথবাবুর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। নোটবন্দির পর বেশ কয়েকদিন কেটে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছিল না ব্যাঙ্কের পরিষেবা। এই অবস্থায় প্রায় ২৪ দিন কেটে যায়। আগের মাসের পেনশনের টাকাও শেষ। ফলে, সংসার চালাতে ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর মছলন্দপুরে ব্যাঙ্কে পেনশনের টাকা তুলতে যান রবীন্দ্রনাথবাবু। ব্যাঙ্কে তখন দীর্ঘ লাইন। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে টাকা তুলে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তঁার মৃত্যু হয়। 
এই ঘটনার পর কেটে গেছে ৩ বছর। এদিন ঘোষপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেল তালাবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ মুখার্জির বাড়ি। তাঁর প্রতিবেশী, শিক্ষক সুকুমার দত্ত জানালেন, রবীন্দ্রনাথবাবুর মৃত্যুর পর তাঁর বাড়িটি তালাবন্ধই রয়েছে।

তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে‌ রবীন্দ্রনাথ মুখার্জির বাড়ি। ছবি: প্রতিবেদক   

জনপ্রিয়

Back To Top