বিশ্বজিৎ দাস: ক্যারিবিয়ান সফর সেরে শুক্রবার কলকাতায় ফিরেছেন। অথচ গত তিনদিন ধরে তিনি কার্যত অজ্ঞাতবাসে। মাঝে একদিন কিছুক্ষণের জন্য কালীঘাট ক্লাবে এসেছিলেন ঠিকই। কিন্তু তারপর থেকে আবারও সেই বেপাত্তা।
‘‌অজ্ঞাতবাস’‌‌ শব্দটায় অবশ্য প্রবল আপত্তি ঋদ্ধিমান সাহার। তাঁর যুক্তি, ‘‌দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরেছি। সামনে আবার টানা ক্রিকেট মরশুম। তাই মাঝের এই কটা দিন একটু পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাচ্ছি।’‌ যদিও ঋদ্ধির পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বাড়িতে সময় কাটানোর বিষয়টা যেমন ঠিক, তেমনই এর পিছনে রয়েছে একটা চোয়ালচাপা লড়াইয়ের গল্প। জানা গেল, আর পাঁচজন পিতার মতো এখন তিনিও কন্যা আনভির আবদার মেটাচ্ছেন। তাকে নিয়ে পড়াতে বসছেন। আর অবসরে সাউথ সিটির আবাসন থেকেই আসন্ন যুদ্ধের রণকৌশল ঠিক করছেন। সেজন্যই তাঁর এই অঘোষিত গৃহবন্দি।
১৭ তারিখ থেকে মহীশূরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘‌এ’‌ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্ট। এই ম্যাচে ভারত ‘‌এ’‌ দলকে নেতৃত্ব দিতে আগামী শনিবার কলকাতা ছাড়বেন ঋদ্ধি। যে ম্যাচকে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দল নির্বাচনের ড্রেস রিহার্সালও বলা হচ্ছে। উমেশ যাদব, কুলদীপ যাদবের পাশাপাশি এই ম্যাচে নির্বাচকদের নজর থাকবে অভিমন্যু ঈশ্বরন, প্রিয়ঙ্ক পাঞ্চালদের মতো তরুণদের দিকেও। এবং অবশ্যই ঋদ্ধির ওপরেও।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঋদ্ধির রেকর্ড বেশ ভাল। তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তিন বছর আগের ক্যারিবিয়ান সফরেই। তা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত ক্যারিবিয়ান সফরে টেস্ট দলে ফেরা ঋদ্ধিকে বাইরে রেখে নির্বাচকরা সুযোগ দিয়েছিলেন তরুণ ঋষভ পন্থকে। এক্ষেত্রে দুটো বিষয় কাজ করেছিল টিম ম্যানেজমেন্টের অন্দরে। এক, উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙার কুসংস্কার। দুই, ঋদ্ধিকে হাতে রেখেই ‘‌উইকেটকিপার’‌ ঋষভকে তৈরি করে নেওয়া। কিন্তু তিন ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ ঋষভ। উইকেটের পিছনেও সেভাবে নজর টানতে না পারায় মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচকরা ফের বঙ্গসন্তানের দিকে ঝুঁকে। সেজন্যই আরও চাপের মুখে ফেলে ঋদ্ধিকে পরখ করে নিতে চাওয়া নির্বাচকরা এখানে তাঁর হাতে নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষলগ্নে এই নেতৃত্বের বিষয়টা নিয়ে এক জাতীয় নির্বাচক ঋদ্ধির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও করেছিলেন। বুঝিয়ে ছিলেন ফেরার লড়াইয়ে প্রবলভাবে ছাপ ফেলতে হবে।
বিষয়টা কাকতালীয় হলেও ঋদ্ধির ক্রিকেট জীবনে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ সবসময় অন্য আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে। ২০১০ সালে এই প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর টেস্ট অভিষেক। আবার গত বছর জানুয়ারিতে কেপ টাউন টেস্টে চোট পাওয়ায় ঋদ্ধিকে সিরিজের মাঝপথেই দেশে ফিরে আসতে হয়। তারপর কাঁধের অস্ত্রোপচার। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকা। এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে জাতীয় দলে ঢোকা। ক্যারিবিয়ান সফরে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ রান করলেও প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। তাই প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জের এই মঞ্চটাকেই বেছে নিয়েছেন এই বঙ্গসন্তান।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top