বিভাস ভট্টাচার্য: একেবারেই অদ্ভুত বাক্স!‌ যার মধ্যে টাকা, মানিব্যাগ, বই, মোবাইল ফোন বা বাক্সের ভেতর ঢোকানো যায় এরকম কিছু ঢুকিয়ে দিলেই বেরিয়ে আসবে জীবাণুমুক্ত হয়ে। বাক্সের মধ্যে আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি দিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। বাক্স না বলে ড্রয়ার বলাই ভাল। টানলে খুলে যায়, আবার কাজ হয়ে গেলে নীচের পাল্লা ঠেলে বন্ধ করে দেওয়া যায়। আবিষ্কারক খুদে বিজ্ঞানী বিহারের নবম শ্রেণির পড়ুয়া উদয় কুমার। 
উদয়ের কথায়, ভাবনাটা মাথায় প্রথম আসে যখন দেখা যায় সারাদিন ঘুরে আসার পর জামা বা অন্যান্য কাপড় ধুলেও টাকা বা মোবাইল ফোন ধোয়া বা কাচা যায় না। যে অবস্থায় এগুলি থাকে সেই অবস্থাতেই রেখে দেওয়া হয়। অথচ সারাদিন একের পর এক হাত ঘুরছে টাকা বা ব্যস্ত সময় নানা জায়গায় রাখা হচ্ছে মোবাইল। হাত ঘুরতে গিয়ে টাকার গায়ে যেমন লেগে যাচ্ছে ময়লা এবং ময়লার সঙ্গে থাকা জীবাণু, তেমনি নানা জায়গায় মোবাইল ফোন রাখার ফলে তার মধ্যেও লেগে যাচ্ছে ময়লা এবং সেই ময়লা বহন করছে জীবাণু। উদয়ের মতে, ‘‌ভাবতে শুরু করি যাতে এমন একটা কিছু করা যায় যেটা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে। এরপরেই আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় আসে। শুরু করি পরীক্ষা। কিন্তু মানুষের গায়ে যদি একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি লাগে তবে তা ক্ষতিকর। ফলে বাক্সটাকে এমনভাবে বানাই যাতে বাক্স বন্ধ করলে এই রশ্মি কাজ শুরু করবে, আবার খোলা হলেই আর কাজ করবে না। ফলে গায়ে লাগার সম্ভাবনাটা আর থাকছে না।’‌ সদ্য হওয়া বিজ্ঞান উৎসবে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে উদয়ের তৈরি এই মডেলটি অনেকেরই প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যিকভাবে এটাকে সে কাজে লাগাচ্ছে কি না।  বিষয়টি নিয়ে শিবপুর গ্রিন এনার্জি অ্যান্ড সেন্সরের অধ্যাপক ড.‌ হিরণ্ময় সাহা বলেন, ‘‌এই রশ্মির সাহায্যে কিছু কিছু জীবাণু অবশ্যই ধংস করা যায় তবে সব ধরনের জীবাণুর ক্ষেত্রে সম্ভব হবে না।’‌ ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top