‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগের সব সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তবু পুরোদমে কাজ করছে চন্দ্রযান–২–এর অরবিটার। ৯৮ শতাংশ লক্ষ্যপূরণে সফল হয়েছে অরবিটার বলে জানালেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিবান। এমনকী ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে গগনযান পাঠানোর মিশন হল পরবর্তী পদক্ষেপ। আইআইটি ভুবনেশ্বেরে কনভোকেশন সেরিমনিতে উপস্থিত হয়েছিলেন কে সিবান। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি দুটি ক্ষেত্রে সাফল্য আসা দরকার। আর অরবিটারটি দুটি ক্ষেত্রেই প্রায় সফল। ৯৮ শতাংশ সফল বলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২০২০ সালে আরও একবার চন্দ্র অভিযানের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌এই বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগে ল্যান্ডার বিক্রমে কী সমস্যা হয়েছে সেটা বোঝার চেষ্টা চলবে। আগামী সাড়ে সাত বছর ধরে কাজ করবে অরবিটার।’‌ অরবিটারের নাম চন্দ্রযান–২। একটি বাক্সের মত দেখতে। যার ওজন ২৩৭৯ কেজি। এই অরবিটার থেকে ১০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জেনারেট করতে পারে। ল্যান্ডারের সঙ্গে ও ভারতের স্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে এটি।
এটাতে রয়েছে একটি ম্যাপিং ক্যামেরা, একটি স্পেকট্রোমিটার, একটি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রেডার। একটি ইনফ্রারেড স্পেকট্রোমিটার, একটি এক্স–রে স্পেকট্রোমিটার এবং একটি সোলার এক্স রে মনিটর। সাড়ে ৭ বছর চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি পাঠাবে ভারতে।
জানা গিয়েছে, চাঁদের দিকে যাওয়ার সময় অরবিটারের যে জ্বালানি খরচ হওয়ার কথা ছিল তা কিছুটা সঞ্চয় করা গিয়েছে। তাই ইসরো অরবিটারের আয়ু বাড়াতে পেরেছে। শ্রীহরিকোটা থেকে রওনা হওয়ার পর চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যায় এটি। ২০ আগস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান। ১ সেপ্টেম্বর চাঁদের অন্তিম কক্ষপথে প্রবেশ করে। তখন চাঁদ থেকে এই স্পেসক্রাফটের দূরত্ব ছিল ১০০ কিলোমিটার। কে সিবান বলেন, ‘‌আমরা যেটুকু ব্যর্থ হয়েছি তা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আর ঝুঁকি না নিলে তাৎপর্যপূর্ণ জীবন পাওয়া যায় না।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top