আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোভিড মহামারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রীর কাছেই নিজস্ব স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট নেই, যার সাহায্যে তারা অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারে। তাদের সেই অভাব পূরণের দায়িত্বে এগিয়ে এসেছে আরেক ছাত্রী। চেন্নাই পুলিশের কমিশনার মহেশ কুমার আগরওয়ালের মেয়ে, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী গুণিশা, যাঁরা নতুন কিনে পুরনো ট্যাব, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন বাতিল করছেন সেগুলি জোগার করে দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে সেই সব বিতরণ করছে। চেন্নাইয়ের এক অটোচালকের বি কম পাঠরতা কন্যা বা একটি রেস্তোরাঁর ওয়েটারের দশম শ্রেণিতে পাঠরতা কন্যার হাতে ট্যাব তুলে দিয়েছে গুণিশা। ওই দুজন সহ মোট চারজন এভাবেই তার কাছে থেকে সাহায্য পেয়েছে। 
একদিন নিজের মা–কে তাদের পরিচারিকার মেয়ের জন্য তাদের পুরনো ল্যাপটপ দিতে দেখেছিল গুণিশা। যাতে পরিচারিকার মেয়ে অনলাইন ক্লাস করতে পারে। ঘটনাটি ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে। গুণিশা বলল, ‘‌আমাদের কাছে যখন অনেকগুলি যন্ত্র আছে, তখন অনেকের কাছে একটাও নেই। ভাইবোনেরা তো একটাই যন্ত্র নিজেরা ভাগ করে নেয়। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ডিজিটাল বিভাজন মেটানো।’‌
এরপর একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কাছে পরামর্শ নিয়ে ৫০,০০০ টাকা মূল্যের এটি ওয়েবসাইট খোলে গুণিশা। ওই ওয়েবসাইটেই সে আবেদন করেছিল চেন্নাই এবং অন্যত্র থেকে কেউ যদি তাঁদের পুরনো ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোন দান করতে চান দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের, অথবা কেউ যদি সম্পূর্ণ নতুনই কিনে দিতে চান, তাঁদেরকে ওয়েবসাইটে যোগাযোগ  করতে হবে। ওই ওয়েবসাইটে একদল বিশেষজ্ঞও আছেন, যাঁরা যন্ত্রগুলি পরীক্ষানিরীক্ষা করে সেগুলি অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রস্তুত করে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ১০টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ সহ মোট ২৫টি এধরনের যন্ত্র জোগার করেছে গুণিশার ওয়েবসাইট। আরও ১৫জন ছাত্রছাত্রী সেখানে আবেদনও করেছে। একটি নামী বিজ্ঞাপন কোম্পানির ডিরেক্টর আর আনন্দকৃষ্ণন ওই ওয়েবসাইটে ১০০টি ট্যাব এবং ১২ লক্ষ টাকা দান করেছেন।  
  

জনপ্রিয়

Back To Top