সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং, ‌৩০ সেপ্টেম্বর- আবহাওয়ার ভ্রুকুটি সামলে পাহাড়ে শুরু হয়ে গেল দুর্গা পুজো। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিনয় শিবিরের উদ্যোগে কয়েক বছর ধরেই দার্জিলিং ম্যালে পাহাড়ের সবথেকে আকর্ষণীয় পুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। রবিবার থেকেই ধুমধাম করে পুজো শুরু হয়ে যায়। চলে ভোগ বিতরণ। পুজোকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে ম্যাল চত্বর। পাহাড়ে বেড়াতে এসে পর্যটকরাও আনন্দে মেতে উঠেছেন। এর পাশাপাশি দার্জিলিং থেকে কালিম্পং পাহাড় জুড়ে বিভিন্ন ছোট বড় পুজোকে কেন্দ্র করেও এখন তৎপরতা তুঙ্গে।
দার্জিলিঙের সবচেয়ে পুরনো পুজো হল চকবাজারের নীচে চঁাদমারির নৃপেন্দ্র নারায়ণ বেঙ্গলি হিন্দু হলের পুজো। এই পুজো এবার ১০৫ বছরে। তখন পাহাড়ের বাঙালিদের উদ্যোগেই এই পুজো শুরু হয়। তবে এখন পুজোয় অংশ নেন গোর্খারাও। এবার পঞ্চমীতে মূর্তি স্থাপন হবে। মূর্তি আসছে শিলিগুড়ি থেকে। প্রতিদিন বিকেলে এখানে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এক সময় এই পুজোর প্রতিমা আনা হত টয় ট্রেনে করে। বেঙ্গলি হিন্দু হলের সভাপতি সাধন মিত্র বলেন, ‘‌ঐতিহ্যকে ধরে রেখে রীতিমতো নিষ্ঠার সঙ্গে এই পুজো করা হয়।’‌ 
নৃপেন্দ্র নারায়ণ হিন্দু বেঙ্গলি হলের পুজো ছাড়াও কার্শিয়াঙে রাজ রাজেশ্বরী হলের পুজোও পাহাড়ের অন্যতম প্রাচীন পুজো। একশো বছরেরও পুরনো এই হলের পুজোও দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। বছর দুয়েক আগে পাহাড়ে হিংসাত্মক আন্দোলনের সময় এই হলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। হলটিকে নতুন করে সাজিয়ে দিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। তাই এবার এখানকার পুজোও নজর কাড়তে চলেছে। দার্জিলিঙের ডালিতে পুলিশ লাইনেও ব্রিটিশ আমল থেকে দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। এবারও সেখানে পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে বলির আয়োজন করা হয়। ছোট করে পুজো হয় দার্জিলিঙের অভেদানন্দ আশ্রমে। পুজোর ক’‌টা দিন এই পুজোগুলো ছাড়াও ভিড় জমে বিভিন্ন মন্দিরে। এর মধ্যে মহাকাল ধাম, রকভিল ধাম মন্দির, ইডেন ধাম মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। কালিম্পঙেও মিলনী সঙ্ঘের পুজোকে কেন্দ্র করে পুজোর ক’‌টা দিন মেতে ওঠেন স্থানীয় বাঙালি ও গোর্খারা। 

দার্জিলিং ম্যালে এর মধ্যেই পুজোর আবহ। মূর্তির সামনে ভিড় করেছেন পর্যটকরাও। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top