অলক সরকার, শিলিগুড়ি, ৩০ মার্চ— লকডাউন ঘোষণায় এমনিতেই কালিম্পং শুনশান। তার মধ্যে করোনায় রাজ্যে যে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেই মহিলার বাড়িও কালিম্পঙেই। ফলে মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর মানুষ আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ফলে বিগত ৫–‌‌৭দিন অনেকে বাজার করতে বাইরে বের হলেও এখন কালিম্পং শহরের কেউ বাইরে বের হতে সাহস করছেন না। এমন অবস্থায় রোজকার খাওয়া দাওয়া নিয়েই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল পাহাড়ে। এমন সময়ে কালিম্পংবাসীর মুখে খুশির হাসি ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। চালু করেছে হোম ডেলিভারি। বাড়িতে বসে ফোন করলেই দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। এমন ঘোর সঙ্কটে পুলিশ যেন অনেকটা দেবদূতের মতো অবতীর্ণ হয়েছেন পাহাড়ের মানুষের কাছে। সকলে ধন্যবাদও জানাচ্ছেন।  
পাহাড়ের মানুষকে এমনিতেই নানা ব্যাপারে সমতল শিলিগুড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। আগাম প্রস্তুতি না থাকলে জিনিসপত্র মজুত করতে প্রচণ্ড সমস্যা হয়। তারপরেও লকডাউন ঘোষণার পর দার্জিলিং ও কালিম্পঙের মানুষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা হয় লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোয়। তার ওপর কালিম্পঙের মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় সমস্যা আরও তীব্র হয়। আতঙ্কে অনেক দোকান আর খুলছেই না। মানুষও বাইরে বের হচ্ছেন না। এই সময় ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়াল কালিম্পং পুলিশ। বাড়িতে বসে ফোন করলেই যাতে বাসিন্দারা খাবার পান, তার জন্য চালু করেন হোম ডেলিভারি সিস্টেম। ওষুধ থেকে শুরু করে, খাদ্য সামগ্রী, সবই পেয়ে যাবেন ঘন্টা খানেকের মধ্যে৷ ২৮ মার্চ থেকে পরিষেবা চালু হলেও এখন আরও ভালভাবে ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিচ্ছেন। সকাল ৯টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত পুলিশের (০৩৫৫২)‌ ‌২৫৬০০৩ নম্বরে ফোন করলেই মিলছে পরিষেবা। পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ কর্মীরাই। হোম ডেলিভারি সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কালিম্পং পুলিশের তরফেই৷ কালিম্পং ট্রাফিক পুলিশের ওসি সুরজ লামা বলেন, ‘‌হোম ডেলিভারির জন্য কোনও অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে না।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top