আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌

‌ফের থানায় নৃশংস পুলিশি অত্যাচারের শিকার আরও এক যুবক। তামিলনাড়ুতেই। তুতিকোরিনের সেই থানায়। যেখানে জয়রাজ ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এবারও অভিযুক্ত ওই সাব–ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। জয়রাজের মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগের ঘটনা। অভিযোগ, ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয় মহেন্দ্রন নামে এক যুবককে। পেশায় দিনমজুর তিনি। একটি খুনের মামলার তাঁর দাদা দুরাইকে খুঁজছিল পুলিশ। দাদাকে না পেয়ে ভাইকে তুলে নিয়ে যায় তারা। পুলিশের অত্যাচারে মাথায় রক্ত জমাট বেঁধে গেছিল। মৃত্যুর পর রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে চিকিৎসকেরা। পরিবার জানিয়েছে, একটা গোটা রাত থানায় রেখে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। পরদিন ছেড়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে বেরিয়ে ঠিক করে হাঁটতেও পারছিল না মহেন্দ্রন। বাড়ি ফিরে জলও খেতে পারেনি। ক্রমে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বেগতিক দেখে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয়ে মহেন্দ্রনের। থানা থেকে ফিরে হাত–পা অসাড় হয়ে গেছিল, জানান আত্মীয় পেরুমল। তিনি বলেন, গত ২৩ মে রাতে দিদিমার বাড়ি থেকে ২৮ বছরের মহেন্দ্রনকে তুলে নিয়ে যায় সান্থনকুলমের এলাকার থানার সাব–ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ ও তাঁর দলের লোকেরা। বাড়িতে ঢোকার আগে জিপের নম্বর প্লেট সরিয়ে দিয়েছিল পুলিশেরা। হাতে পিস্তল ছিল। মহেন্দ্রনের মা বলেন, ছেলে নির্দোষ। চেয়েছিলেন, ময়নাতদন্ত হোক। কিন্তু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চলায় হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলা হয় পরিবারকে। পুলিশি হেপাজতেই ছেলের মৃত্যু, অভিযোগ তুলে থানার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ কানেই তোলেননি সুপার। জেলাশাসকের কাছে গিয়েও এক অভিজ্ঞতা। দেখাই করেননি নাকি!‌ বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মহেন্দ্রনের মা। মামলা মাদ্রাজ হাইকোর্টে উঠেছে। লড়বেন আইনজীবী রামানুজম। তিনি বলেন, ‘‌ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তুতিকোরিনের পুলিশ সুপার, ইনস্পেক্টর শ্রীধর এবং সাব–ইনস্পেক্টর রঘু গণেশ। খুনের মামলা দায়ের করা উচিত তাঁদের বিরুদ্ধে। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। শ্রীধর–রঘু গণেশদের বিরুদ্ধে আগে ব্যবস্থা নিলে আর কাউকে খুন হতে হত না।’‌ 
পুলিশি হেপাজতে ব্যবসায়ী পি জয়রাজ ও তাঁর ছেলে জে বেনিক্সের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। সরানো হয়েছে পুলিশ সুপারকে। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ই কে পলানীস্বামী।  


 

 


 

জনপ্রিয়

Back To Top