‌আজকালের প্রতিবেদন: ত্রিপুরায় গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট। তিনি এটিএম থেকে টাকা তোলার পরই কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর অন্য রাজ্যে বসেই পেয়ে যেত এটিএম হ্যাকাররা। এরপর ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নিত। এটিএম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বড় সাফল্য পেল। ত্রিপুরা পুলিশের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই দুজন তুরস্কের নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করল। এদের ধরা হয়েছে বেলঘরিয়া থেকে। 
মঙ্গলবার এদের ধরা হয়। তুরস্কের দুই নাগরিক হাকান জানবারকান এবং ফেতাহ্‌ আলদেমির (‌পাসপোর্ট নাম্বার‌ ইউ ২০৪৩৪২৪৯ এবং ইউ ১০২৬৬১৮৭)‌ ভারতে এসেছিল কিছুদিন আগেই। বৈধ ভিসা নিয়েই। অন্যদিকে দুই বাংলাদেশির নাম মহম্মদ হান্নান ও মহম্মদ রফিক ইসলাম। এরা দুজনেই ওই দুই তুরস্কের নাগিরকের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে এটিএম হ্যাক করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তুরস্কের দুই নাগরিক মুম্বইতেও এটিএম থেকে টাকা তুলে নিয়ে ধরা পড়েছিল। এরা এটিএম নম্বর ‘‌ক্লোনিং’‌ করে কলকাতা, গুয়াহাটি ও দিল্লি থেকে এই কাজ করত। ধৃত দুই তুরস্কের নাগরিকের বিরুদ্ধে ত্রিপুরা পুলিশ লুকআউট নোটিসও দিয়েছিল। এটি একটি বড় চক্র বলে মনে করছে পুলিশ। ত্রিপুরা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ধৃতদের কলকাতা থেকে আনতে ইতিমধ্যেই একটি দল কলকাতায় পৌঁছেছে। সেখান থেকে নিয়ে এসে আগরতলা আদালতে এদের পেশ করা হবে। তারপর পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হবে। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে।
গত আগস্ট মাসে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের সহায়তায় ওই দুই তুরস্কের নাগরিক গুয়াহাটির অ্যাকাউন্টের এটিএম থেকেও ভিন রাজ্যে বসে টাকা চুরি করেছিল। এবং একই পদ্ধতিতে আগরতলার টাকাও তারা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রায় ৫০টি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লক্ষ টাকা চোরেরা হাতিয়ে নেয়। একটি সূত্রের খবর, আগরতলার বিভিন্ন এটিএম কাউন্টার থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি এরা তুলে নিয়েছিল। যদিও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার রিজিওনাল ম্যানেজার দিব্যেন্দু চৌধুরি জানিয়েছেন, ৪৫ জন গ্রাহকের এটিএম হ্যাকিংয়ের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের হিসেব অনুযায়ী ২০ লক্ষ টাকার বেশি খোয়া যায়নি। প্রকৃত গ্রাহকদের সমস্ত টাকাই ফিরিয়ে দেবে ব্যাঙ্ক। কিছুদিন আগে কলকাতা ও মুম্বই থেকেও এটিএম স্কিমাররা একই পদ্ধতিতে টাকা তুলে নিয়েছিল। তারাও ধরা পড়ে। প্রহরীহীন এটিএম কাউন্টারে চোরেরা ঢুকে একটি গোপন ক্যামেরা এবং মেমরি কার্ড এবং একটি স্কিমার মেশিন কাউন্টারে ব্যবহার করে। এটিএম কার্ড যেখানে ঢুকিয়ে টাকা তোলা হয়, সেখানেই অত্যন্ত গোপনে স্কিমিং মেশিনটি বসানো থাকে। টাকা তোলার আগে গ্রাহকরা যখন পিন নম্বর টাইপ করেন, সেই জায়গায় একটি ছোট গোপন ক্যামেরা বসানো থাকে। ওই ক্যামেরায় পিন নম্বরের ছবিও চলে আসে। তারপর নকল এটিএম কার্ড বানিয়ে টাকা তোলা শুরু করে। পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জানতে চাইবে এই চক্রে আরও কারা জড়িত।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top