আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌ভোট বড় বালাই। জনগণের মন পাওয়ার জন্য কোনও মিথ্যা কথাই টেকে না। কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা ঠিক কী, আদৌ তিনি স্নাতক, নাকি স্নাতক নন সেই নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় পাঁচ বছর আগেই। বিরোধীদের তোপের মুখে, নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগও ওঠে নানা মহলে।  তবে ভোটের হাওয়া শুরু হতেই সব বিতর্কে জল ঢেলে দেন স্মৃতি নিজেই। বৃহস্পতিবার তিনি নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি স্নাতক নন। আমেঠি থেকে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে লড়ছেন স্মৃতি ইরানি।
স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কংগ্রেস আগেও প্রশ্ন তুলেছিল। এবার নিজের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর স্বীকারোক্তি নিয়ে টুইট করল কংগ্রেস। টুইটে কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদি বলেছে, ‘‌নতুন একটি সিরিয়াল আসতে চলেছে, যার নাম কিউকি মন্ত্রী ভি কভি গ্র‌্যাজুয়েট থি।’ টুইটে ‘‌কিউকি সাস ভি কভি বহু থি’‌–এর গানটিকে মস্করা করে কংগ্রেস লিখেছে, ‘‌কোয়ালিফিকেশন কে ভি রূপ বদলতে হ্যয়, নয়ে–নয়ে সাঁচে মে ঢলতে হ্যয়, এক ডিগ্রি আতি হ্যয়, এক ডিগ্রি যাতি হ্যয়‌, বনতে এফিডেফিট নয়ে হ্যয়।’‌ 
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হলফনামা থেকে জানা গিয়েছে, তিনি ১৯৯১ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। হলফনামার উচ্চশিক্ষা বিভাগে উল্লেখ রয়েছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ করেসপন্ডেন্সে বি কম পড়তে শুরু করেছিলেন তিনি। পার্ট ওয়ানের পরীক্ষাও দেন, তবে তিন বছরের কোর্স শেষ করতে পারেননি। তাই স্নাতকের কোনও ডিগ্রি নেই তাঁর। এই প্রথমবার স্মৃতি ইরানি স্পষ্ট করে জানান যে তিনি তিন বছরের স্নাতকের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতির পড়াশোনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছিল।। ২০০৪, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে তিনি মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দিয়েছিলেন। বিরোধীরা তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হন। ভুয়ো ডিগ্রি মামলা দায়ের হয় আদালতে। ২০০৪ সালে তিনি লোকসভা নির্বাচনে চাঁদনি চক থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি করেসপন্ডেন্সে আর্টস নিয়ে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হন। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনী হলফনামায় স্মৃতি ইরানি জানান যে তিনি ১৯৯৪ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ করেসপন্ডেন্সে কমার্স নিয়ে স্নাতকের পার্ট ওয়ান পরীক্ষা দেন। 
আহমেদ খান নামে এক সাংবাদিক অভিযোগ তোলেন, নিজের যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন স্মৃতি। ২০১৫ সালে তিনি তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলাও করেন। যদিও আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দেয়। বিতর্কের শেষ অবশ্য এখানেই হয়নি। ২০১৪ সালে একটি অনুষ্ঠানে স্মৃতি ইরানি হঠাৎই দাবি করে বসেছিলেন, তিনি আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় নিজের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি। 

 

 

 


 

জনপ্রিয়

Back To Top