আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আপনি কত টাকার লেনদেন করছেন, কত টাকার সোনা কিনছেন বা জমি–বাড়ি, সব তথ্যই চায় কেন্দ্র সরকার। অথচ সেই কেন্দ্র সরকারের কাছে নাকি কোনও তথ্যই নেই। দেশে কত জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে, লকডাউনে কত জন পরিযায়ী শ্রমিক মারা গেছেন, কিছুই জানে না মোদি সরকার। সংসদের বাদল অধিবেশনে অন্তত সে কথাই বলল তারা। কী কী বিষয়ে তথ্য নেই, দেখা যাক—
পড়ুয়ার আত্মহত্যা:‌ লকডাউনে মোবাইল বা নেট সংযোগ না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বহু পড়ুয়া। অনেকে আত্মহত্যা করেছে। কতজন পড়ুয়া লকডাউনে আত্মহত্যা করেছে, সংসদে জানতে চেয়েছিলেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছেন, তথ্য নেই তাদের। 
পরিযায়ীর মৃত্যু:‌ লকডাউনে না খেতে পেয়ে বা পায়ে হেঁটে ঘরে ফেরার সময় মারা গেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এই সংখ্যাটা কতজন, প্রশ্ন করা হয়েছিল সংসদে। ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক জানায়, তাদের কোনও তথ্য নেই। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে মোদি সরকার। 
লকডাউনে মাঝারি, ছোট শিল্প বন্ধের খতিয়ান:‌ করোনার জেরে দেশজুড়ে আচমকা লকডাউন। তার জেরে চিরতরে বন্ধ হয়েছে বহু ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি শিল্প (‌এমএসএমই)‌। এই মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গি একটি প্রশ্নের জবাবে, কল কারখানা বন্ধ হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সংখ্যাটা কতগুলো, জানাতে পারেননি। কারণ তথ্য নেই। এমনকী ২০১৪–১৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত কতগুলো ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়েছে, সেই তথ্যও নেই কেন্দ্রের কাছে। 
কোভিড–কালে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু:‌ কোভিডের চিকিৎসা করতে গিয়ে দেশে মারা গেছেন বহু চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী। এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে রাজ্যসভায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য আসলে রাজ্যের ইস্যু। এই সংক্রান্ত নথি তাই কেন্দ্রের কাছে নেই। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন তীব্র নিন্দা করেছে। 
দেশে প্লাজমা ব্যাঙ্কের সংখ্যা:‌ কোভিড চিকিৎসার জন্য প্লাজমা দেওয়ার সুপারিশ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক করেনি। তাই এই সংক্রান্ত তথ্যও নেই, জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে। লিখিত জবাব আরও বলেন, রাজ্যগুলোই কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে।  

জনপ্রিয়

Back To Top