আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন রুখতে কংগ্রেস শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে নিজস্ব আইন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁকে কৃষকরা জানিয়েছেন, ‘‌করোনার চেয়েও মারাত্মক এই আইন।’‌
কংগ্রেস ‌শাসিত রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরুদ্ধে নয়া আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সেইমতো মঙ্গলবার পুডুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আইন রুখতে শিগগিরই নতুন আইন প্রণয়ন করবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুডুচেরি। তাঁর কথায়, ‘‌কেন্দ্রীয় কৃষি আইনগুলি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই আইনে শিল্পপতিদের স্বার্থ দেখা হয়েছে। এর ফলে বেআইনিভাবে মাত্রাছাড়া ফসল মজুতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হবেন কৃষকরা।’‌ 
এদিকে, এদিনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক বিক্ষোভ চলেছে। মোদি সরকার যতই নয়া কৃষি আইনকে ‘‌কৃষকের ভালর জন্য’‌ বলে প্রচারের চেষ্টা করুক, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং কর্ণাটকে পথে নেমে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন কৃষকরা। পাঞ্জাবে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘‌রেল রোকো’‌ কর্মসূচি নিয়েছেন কৃষকরা। বিরোধী দলগুলিও আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সংসদে বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে ‘‌একতরফাভাবে’‌ বিতর্কিত কৃষি বিল পাশ করানোর পর থেকেই দেশ জুড়ে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একাধিক কংগ্রেস নেতা ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। দিল্লিতে গতকালই ইন্ডিয়া গেটের সামনে ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন একদল কৃষক। যুব কংগ্রেসের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। 
সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ হচ্ছে পাঞ্জাবে। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং অনশনে বসেছেন। রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার তোড়জোড় চলছে। প্রতিটি মামলাই নয়া কৃষি আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‌করা হচ্ছে। এই আইনের প্রতিবাদে কর্ণাটকে বন্‌ধ পালিত হয়েছে।
এদিকে, এনসিআরবি (‌ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো)‌–‌র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গোটা দেশে ১৩,০০০ কৃষক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিংসা ছড়িয়েছিল। সম্প্রতি আরও জোরালো আকারে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এবার কৃষকদের দাবি, নয়া আইনে ন্যূনতম সহায়কমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে ২০১৫ সালে শান্তাকুমার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা দেশে ৬ শতাংশের কম কৃষক তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়কমূল্য (‌এমএসপি)‌ পান। যে তিনটি আইন নিয়ে দেশ জুড়ে বিরোধ চলছে, সেগুলি হল— ‘‌দ্য ফার্মার্স প্রডিউস ট্রেড অ্যান্ড কমার্স (‌প্রোটেকশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন)‌ অ্যাক্ট’,‌ ‘দ্য ফার্মার্স (‌এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন)‌ এগ্রিমেন্ট অফ প্রাইস অ্যাসুরেন্স অ্যান্ড ফার্ম সার্ভিসেস অ্যাক্ট’‌ এবং ‌‘‌দ্য এসেন্সিয়াল কমোডিটিজ (‌অ্যামেন্ডমেন্ট)‌ অ্যাক্ট’‌।
রাহুল গান্ধী ‘‌কিসান কি বাত’ ভার্চুয়াল কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। কৃষকদের তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেন। যার উত্তরে প্রত্যেকেই মোদি সরকারের নয়া আইনকে ‘‌কালা কানুন’‌ বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই নয়া আইনকে করোনা ভাইরাসের চেয়েও ক্ষতিকারক বলেছেন। এরপর ৩টি কৃষি আইনের সঙ্গে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর নোটবন্দি ও জিএসটি–‌র সঙ্গে তুলনা টেনেছেন রাহুল। ‌‌তাঁর কথায়, ‘‌কৃষি বিলগুলি আসলে কালা কানুন। কৃষকদের বঞ্চিত করে শিল্পপতিদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই আইন আনা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে কৃষকদের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করবে মোদি সরকার।’‌‌‌
অন্যদিকে, কংগ্রেস–‌সহ যে সব রাজনৈতিক দল নয়া কৃষি আইনের বিরোধিতা করছে, তাদের তীব্র আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার উত্তরাখণ্ডে এক ‘‌মেগা প্রজেক্ট’‌–‌এর ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানত কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন। কংগ্রেসের নাম না করেই তিনি বলেছেন, ‘‌এই বিরোধী রাজনীতির পেছনে রয়েছে ৪ প্রজন্ম ধরে অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক দলের হতাশা। সরকারের শুভ উদ্যোগের বিরোধিতা করে তারা সমাজে নিজেদেরই অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top