আবু হায়াত বিশ্বাস
দিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর

৩০০ বা তার বেশি কর্মী কাজ করেন এমন শিল্প সংস্থায় এখন থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়াই ইচ্ছেমতো নিয়োগ ও ছাঁটাই করা যাবে। সংশোধিত শিল্প সম্পর্কিত কোড ২০২০–তে এমনই সুপারিশ করেছে কেন্দ্র। অভিযোগ, নতুন বিলে খর্ব হচ্ছে বন্‌ধ ও ধর্মঘটের অধিকারও। যে কারণে বিলটিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধীরা। 
শনিবার লোকসভায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড ২০২০, অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ওয়ার্কিং কন্ডিশনস কোড ২০২০ এবং কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ২০২০— মোট তিনটি বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ার। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস কোড ২০২০–‌তে অবাধ ছাঁটাই ও ক্লোজারের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আগের নিয়মে ১০০ জনের নীচে কর্মরত কোনও সংস্থায় ছাঁটাই বা ক্লোজার করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারের অনুমতি নিতে হত না। এবার সংখ্যাটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০। নতুন বিলে ‘মাস ক্যাজুয়াল লিভ’কেও ধরা হবে ধর্মঘট হিসেবে। শাস্তি হবে গণহারে।  ধর্মঘট করলে চড়া জরিমানা, জেলের মতো কঠোর শর্তও চাপানো হয়েছে।  কংগ্রেস, বাম–‌সহ বিরোধী দলগুলির বক্তব্য,  নতুন কোডে শ্রমিকদের অবাধ ছাঁটাই ও ক্লোজারের সুযোগ রাখা হয়েছে। 
তবে সংসদের চলতি অধিবেশনেই তিনটি বিল পাশ করাতে চায় কেন্দ্র। শ্রমমন্ত্রী বলেছেন, ২৯টি শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি কোডে এনে কোড অফ ওয়েজ বিল ২০১৯ পাশ হয়েছে গত বছরই। পরে এই তিনটি বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ২৩৩টি সুপারিশের মধ্যে ১৭৪টিই মেনে নেওয়া হয়েছে এবং তারপরেই সংসদে পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, এই বিলে ব্যাপক আর্থিক বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। তবে সরকারের যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। সিপিএম সাংসদ এ এম আরিফ বিলগুলি ফের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানান। মণীশ তিওয়ারির বক্তব্য, বিলগুলি পেশ করার আগে শ্রমিক সংগঠন–‌সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন ছিল। বিলের খসড়া ওয়েবসাইটে অন্তত ৩০ দিন রাখা উচিত। শশী থারুর বলেন, বিলগুলি পড়ে দেখার জন্য দু’দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হলেও সাংসদদের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র দু’ঘণ্টা আগে। বিল পাশের জন্য এত তাড়াহুড়ো কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এই কংগ্রেস সাংসদ। বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top