আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সামশাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডে সোমবার সকাল থেকেই উত্তাল সংসদের দুই কক্ষ। এদিন দুই কক্ষেই দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়ে নারী সুরক্ষায় আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলেন সব দলের সাংসদরাই। অধিবেশনের শুরুতে রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, মহিলাদের উপর নির্যাতন রুখতে কোনও বিলের থেকে বেশি জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং মানসিকতায় পরিবর্তন আনা। পুরো প্রশাসনিক পরিকাঠামোতেই গলদ রয়েছে বলেও সংসদে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন নাইডু। সপা সাংসদ জয়া বচ্চন এই ইস্যুকে কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি দাবি করে বলেন, ‘‌এধরনের মানুষদের জনতার সামনে এনে গণধোলাই দেওয়া উচিত’‌। কোনও দেশ বা রাজ্য সরকারের পক্ষেই এধরনের ঘটনা কখনও ভালো ছবি নয় বলে মন্তব্য করে কংগ্রেস সাসংদ গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘‌যখনই এধরনের ঘটনা ঘটবে তখনই ধর্ম, দল, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সেই দোষীকে পক্ষপাতহীনভাবে সাজা দিতে হবে।

’‌ 
লোকসভাতেও অধিবেশনের শুরুতেই এই ইস্যুতে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস, ডিএমকে, বিএসপি সাংসদরা। স্পিকার ওম বিড়লা বিষয়টি জিরো আওয়ারে আলোচনার আশ্বাস দেন। তেলঙ্গনার নালগোন্ডা লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ ইউএনকে রেড্ডি রাজ্যে মদের দোকানের বাড়বাড়ন্ত এবং উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মোড়া এলাকা থেকে কোনও যুবতীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। এই মামলা ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্টে বিচার করে দোষীদের ফাঁসির দাবিও তোলেন তিনি। জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং–ও অভিযুক্তদের সব চেয়ে কড়া শাস্তির কথা বলে বলেন, ‘‌এই ঘটনা সারা দেশকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।’‌ দলমত নির্বিশেষে দুই কক্ষের সব সাংসদরাই ধর্ষকের শাস্তি দিতে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানান। তার জবাবে রাজনাথ বলেন, ‘‌এধরনের ঘটনা রুখতে পুরো কক্ষ যাতে সম্মতি দেয় সেরকম আইন আনতে আমরা তৈরি।

’‌ এব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই আলোচনায় প্রস্তুত সরকার বলেও জানান তিনি। 
এদিনও দিল্লিতে যন্তর মন্তরের সামনে, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সমাজকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ। প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ হয় মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতেও। 
এদিকে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আরটিএ অফিসারদের কর্তব্যে গাফিলতিতেই লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও মূল অভিযুক্ত ট্রাকচালক মহম্মদ আরিফ তাঁদের নজর এড়াতে পেরেছিল। পুলিস সূত্রে খবর, গত ২৪ নভেম্বর কর্নাটকের গঙ্গাবতী থেকে লোহা এবং ইট নিয়ে হায়দরাবাদ যাচ্ছিল ট্রাকটি। কিন্তু আরিফের বৈধ লাইসেন্স ছিল না। সেকারণে তেলঙ্গনার মেহবুবনগরের কাছে ট্রাকটি আটকিয়েছিলেন আরটিএ অফিসাররা। ঝামেলা এড়াতে আরিফ ট্রাকমালিক শ্রীনিবাস রেড্ডিকে ফোন করলে তিনি আরিফকে পরামর্শ দেন কোনওভাবে ট্রাক বেহাল করে দিতে।

সেই মতো আরিফ ট্রাকের একটি মোটর কেব্‌ল খুলে ফেলে। ট্রাক চালু হচ্ছে না দেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান আরটিএ অফিসাররা। তারপরই খুলে ফেলা তার ফের নিজেই জুড়ে সেটি মেহবুবনগরেরই ভুতপুর সড়কের কাছে একটি পেট্রোল পাম্পে নিয়ে যায় আরিফ। সেখান থেকে সে আরেক অভিযুক্ত চেন্নাকেশাভুলুকে ফোন করে। পৌঁছয় আরেক অভিযুক্ত নবীনও। সেখানেই রাতের খাওয়া সেরে তারা তোন্ডুপল্লী গ্রামে ট্রাক নিয়ে পৌঁছয় রাত ৯টা নাগাদ। পরদিন সকালে পুলিস রাস্তার উপর থেকে ট্রাক সরাতে বললে তারা সেটি ঘটনাস্থল তোন্ডুপল্লী টোল প্লাজার কাছে নিয়ে যায়। আরেক অভিযুক্ত শিব পুলিসের কাছে জেরায় স্বীকার করেছে, ঘটনার দিন, ২৭ নভেম্বর বিকেল ৫.‌৩০ মিনিট নাগাদ ট্রাকের পণ্যের কিছু ছাঁট লোহা বিক্রি করে মদের বোতল এবং খাবার কিনেছিল তারা। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ পশু চিকিৎসককে টোল প্লাজার কাছে দেখার পরই তাঁকে ধর্ষণের ছক কষেছিল তারা।
ছবি:‌ এএনআই                             
 ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top