আজকালের প্রতিবেদন
জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরির ক্ষেত্রে যেভাবে বাংলাকে বঞ্চনা করা হয়েছে তা নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। বুধবার ‘‌ক্যাম্পাস টু কেরিয়ার ২০২০’‌ নামে শিক্ষাবিষয়ক এক ওয়েবিনারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌খসড়া যখন তৈরি হয় তখনই রাজ্যের আপত্তির কথা জানিয়েছিলাম। শিক্ষা যেহেতু যৌথ তালিকাভুক্ত তাই আলোচনা দরকার। কিন্তু তা হয়নি। নীতি ঘোষণা করে যৌথ তালিকাভুক্তের বিষয়টিকে বুড়ো আঙুল দেখানো হল। সংসদে কোনও আলোচনা হল না। এই নীতি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলার কোনও শিক্ষাবিদকে রাখা হয়নি। এই শিক্ষানীতিতে ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে বাংলার স্থান হয়নি। বাংলাকে বাদ দেওয়ার দুঃসাহস এরা দেখিয়েছে। এরা রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিম, তারাশঙ্করকে জানে না। জাতীয় সঙ্গীত কার লেখা?‌’‌
এই ওয়েবিনারেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে রাজ্যের বণিকসভাগুলির মেলবন্ধন না থাকা নিয়ে আক্ষেপ করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের চাকরির উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বণিকসভাগুলিরও দায়িত্ব আছে। রাজ্যে সে সুযোগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি বিশেষ মাস্কের স্বত্ব মার্কিন মুলুকে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘‌যাদবপুরের ইনস্ট্রুমেন্টেশন বিভাগ থেকে একটা ডিভাইস তৈরি করা হয়েছিল। একজন মানুষ মাস্ক পরে আছে কী আছে না তা দেখার জন্য। আরেকটা ইলেকট্রনিক্স মাস্ক তৈরি করা হয়েছিল। বাণিজ্যিকভাবে এই মাস্ক তৈরির ক্ষেত্রে পেটেন্ট নেওয়ার জন্য প্রতিটি বণিকসভার কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। আমেরিকার হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে এসেছে।’‌ এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌বণিকসভা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের রাজ্যের শিল্পোদ্যোগীরা এগিয়ে এসে একটা রূপরেখা তৈরি করে দিলে ভাল হয়।’‌ সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সত্যম রায়চৌধুরি বলেন, ‘‌শিক্ষাবিদ এবং শিল্পোদ্যোগীরা থাকবেন এমন একটা ফোরাম তৈরির কাজ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শুরু করা হবে।’‌ এদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন দুর্গাপুর এনআইটি–‌র অধিকর্তা অনুপম দত্ত, ম্যাকাউটের উপাচার্য সৈকত মৈত্র, সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাদার জন ফেলিক্স রাজ, জেআইএস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তরণজিৎ সিং এবং অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং রাইস গ্রুপের চেয়ারম্যান শমিত রায়।

জনপ্রিয়

Back To Top