দীপঙ্কর নন্দী: নাকতলার বাড়ির সামনে এখন ফাঁকা। লোকজন আসতে নিষেধ করে দিয়েছেন। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। যাবতীয় নির্দেশ দিচ্ছেন মোবাইলে। কথা হচ্ছিল তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জির সঙ্গে। কীভাবে এখন সময় কাটছে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘‌এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করতে পারিনি। আমরা জীবনের শুরু থেকেই রাজনীতি করে এসেছি। সারা দিনে অধিকাংশ সময় আমাদের বাড়ির বাইরে কাটিয়ে দিতে হয়েছে। বাড়িতে একসঙ্গে বহুকাল খাওয়াদাওয়া করতে পারিনি। লকডাউন হওয়ার পর থেকে বাড়িতে আছি। মা–ভাইয়ের সঙ্গে খেতে পারছি।’‌ পার্থ বলছিলেন, ‘‌আমার রাজনৈতিক জীবনে রাজভবনকে যেভাবে দেখেছি তা নিয়ে বই লেখার ইচ্ছে ছিল। নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। রাজভবনের ইতিহাস অনেকের অজানা। কিছুটা এগিয়ে কাজ অসমাপ্ত রাখতে হয়। সেই বই লেখা এখন শুরু করেছি। সময় ভালই কাটছে। টিভিতে এন্টারটেইনমেন্ট  প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য কিছু দেখছি না। টিভিতে একই খবর দেখতে আর ভাল লাগে না। বাইরে থেকে অনেকে ফোন করছেন। যতটা পারছি যাহায্য করছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশিকা মেনে চলছি।’‌ পার্থ বলেন, ‘‌কয়েক দিন সকালবেলা খুব বাজে কাটছে। খবরের কাগজ পাচ্ছি না। অসহায় লাগছে। বই পড়ছি, কখনও গান শুনছি, কখনও বিদেশে থাকা মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলছি। মনটা একটু হালকা হচ্ছে। কাহাতক আর বাড়িতে বসে থাকা যায়। কিন্তু উপায় নেই। জানি না আর কতদিন এভাবে চলবে।’‌ 
দমদমের সাংসদ সৌগত রায় লেকগার্ডেন্সের বাড়িতে রয়েছেন। প্রতিদিন সকালে লেকগার্ডেন্সের বাড়ি ভিড়ে উপচে পড়ত। বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসতেন। একটার পর একটা সিগারেট খেতেন। বাড়িতে আসা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সব বন্ধ। লেকগার্ডেন্সের বাড়ি এখন ফাঁকা। বন্যার সময় বাড়িতে থাকতে হয়েছে। বেরোতে পারিনি। বন্ধের সময় বাড়িতে থেকেছি। এখন বাড়িতে থাকা আমার কাছে যন্ত্রণার। দমবন্ধ হয়ে আসছে। সবে দিল্লি থেকে ফিরেছি। একটা উপায় তো বের করতে হবে। দমদম যেতে হবে। এভাবে শুধু বই পড়ে, টিভি দেখে, আমি বাড়িতে বেশিদিন থাকতে পারব না। চিরকাল লোকের মাঝখানে থেকেছি। আপদে–বিপদে ওঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। কবে এই বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাব!‌’‌ এদিন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী একটি আবেদন করেছেন। বিদেশ থেকে ফিরে কসবার বাড়িতে তিনি স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হয়েছেন। তাঁর আবেদন, রাস্তায় থাকা কুকুরগুলোকে যদি এলাকার লোকজন বাড়ি থেকে কিছু খাবার দিতে পারেন। এই সময় ওদের খাবারের দরকার। ওষুধের দোকানের সামনে অনেক কুকুর থাকে। ওষুধের দোকান থেকে তাদের খাবার দেওয়া হয়। অন্য ওষুধ দোকানের কাছে একই আবেদন করেছেন মিমি।

জনপ্রিয়

Back To Top