আজকালের প্রতিবেদন
রিভিউ এবং স্ক্রুটিনির ফল প্রকাশের পরই বদল ঘটল মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধাতালিকায়। নতুন করে ৭ জন পড়ুয়া জায়গা করে নিয়েছে তালিকায়। এর ফলে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন যে মেধাতালিকা প্রকাশ করেছিল পর্ষদ তাতে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৮৪ থেকে বেড়ে হল ৯১। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মালদার চণ্ডীপুর হাই স্কুলের ছাত্রী রোজা পারভিনের ফলাফল। ৬৮১ পেয়ে দ্বাদশতম স্থানে থাকা রোজার স্ক্রুটিনির পর ৬ নম্বর বেড়েছে এবং সে ৬৮৭ পেয়ে মেধাতালিকার ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। এছাড়াও নবম স্থানে থাকা এক পড়ুয়া অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। এবছর রিভিউয়ের ফলে নম্বর বদলেছে প্রায় ২৩ শতাংশ এবং স্ক্রুটিনির ফলে নম্বর বদলেছে প্রায় ২৪ শতাংশ আবেদনকারীর।
বুধবার প্রকাশিত হয়েছে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার রিভিউ এবং স্ক্রুটিনির ফল। ফল প্রকাশ করেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলি। পর্ষদ সূত্রে খবর, রোজা পারভিনের ইংরেজি ও ইতিহাসে তিন নম্বর করে বেড়েছে। যে সাতজন ছাত্রছাত্রী মেধাতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, রোজা ছাড়াও তাদের মধ্যে বাকি ছ’‌জন হল:‌ বহরমপুর জগন্নাথ অ্যাকাডেমির ছাত্র দ্বিজেন্দ্রমোহন ত্রিবেদী, মালদার বার্লো গার্লস হাই স্কুলের ঋতায়নী সাহা, সোনারপুর বিদ্যাপীঠের রণিতা বিশ্বাস, জলপাইগুড়ি ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনের দেবর্ষি পাল, কেন্দুয়াডিহি হাই স্কুলের কৌস্তুভ ঘোষ, রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনের সায়ন চক্রবর্তী। দেবর্ষি, সায়ন এবং কৌস্তুভ ৬৮২ নম্বর পেয়ে একাদশতম স্থানে ছিল, ১ নম্বর বাড়ায় ৬৮৩ পেয়ে মেধাতালিকার দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ঋতায়নী এবং রণিতা দুজনেই ৬৮১ পেয়ে দ্বাদশতম স্থানে ছিল। তিন নম্বর বাড়ায় ৬৮৪ পেয়ে ঋতায়নী নবম এবং দু’‌নম্বর বাড়ায় রণিতা মেধাতালিকার দশম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। দ্বিজেন্দ্রমোহন একাদশতম স্থান থেকে ২ নম্বর বাড়ায় ৬৮৪ পেয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে। মালদার বার্লো গার্লস হাই স্কুলের অঙ্কিতা মণ্ডল মেধাতালিকার নবম স্থানে ছিল। এক নম্বর বেড়ে ৬৮৫ পেয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। 
এবছর রিভিউয়ের জন্য আবেদন করেছিল ২৬৯৪ জন। নম্বর বদলেছে ৬১৫ জনের। অর্থাৎ ২২.‌৮৩ শতাংশ আবেদনকারীর। স্ত্রুটিনির জন্য আবেদন করেছিল ২৬ হাজার ২১৮ জন। নম্বর বদলেছে ৬ হাজার ২২৫ জনের। অর্থাৎ ২৩.‌৭৪ শতাংশের। করোনা পরস্থিতিতে এবছর  উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য শিক্ষক–শিক্ষিকারা অনেক সময় পেয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শেষ হয়। জুলাইয়ে প্রকাশিত হয় ফল। তা সত্ত্বেও স্ক্রুটিনি ও রিভিউয়ের ফলে কী করে এত সংখ্যক পড়ুয়ার নম্বর বদলাল, নম্বর যোগ এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক–‌শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে এই কারণে বেশ কয়েকজন শিক্ষক–শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে পর্ষদ। এদিন এ নিয়ে কল্যাণময়বাবু অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি। তবে পর্ষদের বক্তব্য, গত বছরের তুলনায় এই দুটি ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর সংখ্যা এ বছর অনেকটাই কম। বিশেষ করে স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে। গত বছর ৩৪,১৭১ জন আবেদন করেছিল। এবছর সেখানে ২৬,২১৮ জন। নম্বর বদলের হারও গত বছরের থেকে অনেকটাই কম। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top