তারিক হাসান- ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে কলকাতা ও আশপাশের এলাকার জনজীবন। সোমবার সকাল থেকে সরকারি বাসের পাশাপাশি চলেছে কিছু বেসরকারি বাস, অটোও। লঞ্চ, ফেরি পরিষেবাও শুরু হয়েছে। এদিন থেকেই বেসরকারি অফিসগুলোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল বাস ধরে অফিসে যাওয়ার। কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে নবদিগন্ত শিল্পতালুকও। দর্শনার্থীদের জন্য এদিন সকালেই খুলে দেওয়া হয় ঠনঠনিয়া, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি, লেক কালীবাড়ি মন্দিরের দরজা। তবে পুণ্যার্থীরা সেখানে এখনই পুজো দিতে পারবেন না। তবে খোলেনি কালীঘাট মন্দির। মন্দির কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে।
লকডাউনের শুরু থেকে প্রায় জনহীন ছিল কলকাতা ও আশপাশের এলাকা। এদিন কিন্তু কলকাতা অনেকটাই যেন পুরনো ছন্দে ফিরে এসেছে। চালক ও যাত্রী আসনের মাঝামাঝি স্বচ্ছ পর্দা ঝুলিয়ে ছুটে চলেছে ট্যাক্সি। মাস্ক, গ্লাভস পড়ে যাত্রী চলেছেন গন্তব্যের দিকে। স্বাভাবিকভাবে সরকারি বাস, ট্যাক্সি, অটো, গাড়ি চলতে শুরু করায় কলকাতার কিছু কিছু রাস্তায় এদিন যানজটও হয়। অনেক জায়গায় ট্রাফিক সিগনালে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষাও করতে হয়েছে। সন্ধেয় বাড়িফেরত যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখে পার্ক স্ট্রিট–হাওড়া রুটের একটি বেসরকারি বাসে টালিগঞ্জগামী যাত্রীদের তুলে দেন পুলিশকর্মীরা। অন্যান্য দোকানপাটের পাশাপাশি খুলে গেছে বেশ কিছু শাড়ির দোকানও। 
বেশিরভাগ বেসরকারি অফিসই আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছিল ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে সোমবার থেকে কাজ শুরু হয়ে যাবে। সকাল সকাল সেখানকার কর্মীরা পৌঁছে গিয়ে কাজ শুরু করে দেন। নবদিগন্তে অবশ্য বিভিন্ন সংস্থায় কর্মী কমিয়ে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিছু কিছু সংস্থায় ২৫ শতাংশ কর্মী কাজ করেছেন। ছোট, মাঝারি বেশ কিছু শিল্পেও এদিন কাজ শুরু হয়েছে। বড়বাজার, ক্যানিং স্ট্রিটে চেনা ভিড়। বহু মানুষই কেনাকাটা করেছেন।
আগেই ঠিক হয়, অটোয় সামাজিক দূরত্ব মেনে সর্বোচ্চ দু’‌জন যাত্রী উঠতে পারবেন। এদিন দেখা গেল, বেশিরভাগ অটোতে ট্যাক্সির মতোই চালক এবং যাত্রীদের মাঝে স্বচ্ছ পলিথিনের পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরাও নিরাপদ দূরত্ব রেখেই দু’‌জন করে উঠছেন। 
এদিন সকালে খুলে যায় আদ্যাপীঠ। ভক্তরা পুজো দেন। আদ্যাপীঠের মহাসচিব ব্রহ্মচারী মুরালভাই জানান, লকডাউনেও প্রতিদিন নিয়ম মেনে পুজো হয়েছে। কলকাতার কৃষ্ণনাথ বোস লেনের শিবমন্দিরে পুরোহিত আরতির প্রদীপের সঙ্গে বেঁধে নিয়েছেন লম্বা লাঠি। আর পুণ্যার্থীদের হাতে স্যানিটাইজার। 
হাওড়ায়ও জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক। সরকারি বাসের পাশাপাশি চলেছে কিছু বেসরকারি বাস, হলুদ ট্যাক্সি। ফেরি চালু হয়েছে। অনেকে সাইকেল ব্যবহার করেছেন। গতি এসেছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। চটকল, অফিস–কাছারি খুললেও বেশি কর্মী কাজে যোগ দিতে পারেননি লোকাল ট্রেন, বেসরকারি বাসের অভাবে। চালু হয়েছে শ্রীরামপুর–‌ব্যারাকপুর ফেরি সার্ভিস। আপাতত ২৪ জনকে নিয়ে পারাপার। ভাড়া অপরিবর্তিত।‌‌

 

রাসবিহারী মোড়। সোমবার সকালে। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

তথ্যসূত্র:‌ প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয় বসু‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top