আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌ফের বিতর্কে জোম্যাটো। তবে এবার কোনও গ্রাহকের টুইটে বিতর্ক তৈরি হয়নি। জোম্যাটো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন ওই সংস্থার কর্মীরাই। ঘটনাটি ঘটে রাজ্যের হাওড়া জেলার জোম্যাটো অফিসে। সকাল থেকে বিক্ষোভে নামেন কর্মীরা যাঁরা গ্রাহকের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেন। ডেলিভারি বয়। তাঁদের অভিযোগ, কর্মীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছে জোম্যাটো। হিন্দু ডেলিভারি বয়কে গরুর মাংস নিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে আর মুসলমান ডেলিভারি বয়কে বাধ্য করা হচ্ছে শুয়োরের মাংস নিয়ে যেতে। তাই এবার হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে কর্মীরা একজোট হয়ে জোম্যাটো কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেয়, গরু বা শুয়োরের মাংস আর গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারবেন না তাঁরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের এই দাবি যদি না মেনে নেওয়া হয়, তাহলে সোমবার থেকেই কর্মবিরতির পথে হাঁটবেন তাঁরা।  
মৌসিন আখতার নামে এক কর্মী সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘‌আমরা অনেকদিন ধরেই এবিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের কথায় পাত্তাই দিচ্ছে না। আমাদের রীতিমত বাধ্য করা হচ্ছে। একজন মুসলমান হিসাবে শুয়োরের মাংস বহন করতে আমার সত্যিই অসুবিধে আছে। আমার সহকর্মী হিন্দু ভাইদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এক।’ ‌
এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরও এবিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি জোম্যাটো কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন আগে সংস্থার এক মুসলমান কর্মী খাবার নিয়ে আসছেন দেখে অর্ডার বাতিল করেছিলেন এক হিন্দু গ্রাহক। এই ঘটনায় অনেকেই জোম্যাটোর পাশে দাঁড়ায়। ঘটনার পরে টুইটারে কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘‌খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবার নিজেই একটা ধর্ম।’‌ ভাইরালও হয় টুইটটি। তবে রবিবারের এই ঘটনায় অনেকেরই বক্তব্য, সমস্ত ধর্মীয় মতাদর্শকে সরিয়ে রেখে ‘‌খাবার’‌ নামক ধর্মের প্রচারে নামার আগে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল সংস্থার কর্মীদের ধর্মীয় সংকীর্ণতার বাইরে নিয়ে আসা।  

জনপ্রিয়

Back To Top