আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাজ্যপাল–শাসকদল বিরোধ এবার পৌঁছল বিধানসভা চত্বরেও। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিধানসভা চত্বরে বিআর আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, তাপস রায়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। শাসকদলের বিধায়কদের অভিযোগ, বিজেপি এবং কেন্দ্রের নির্দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি বিলে রাজ্যপাল সই করেননি। তার ফলে বিলটি বিধানসভার চলতি অধিবেশনে পেশ করা যায়নি। তাঁরা জানালেন, সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছতে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি বিল সহ প্রায় ৬০টি নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ এধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিলে রাজ্যপাল সই না করায় বিল আটকে গিয়েছে।
নির্মল ঘোষের অভিযোগ, ‘‌বিলে স্বাক্ষর না করে বিধানসভার অধিকার খর্ব করছেন রাজ্যপাল।’‌ পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের অনুমোদন নানা প্রশ্ন তুলে আটকে রেখেছেন রাজ্যপাল। তাঁর প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু আমরাও সহযোগিতা করেছি।’‌ মণীশ গুপ্ত বলেন, ‘‌সর্বসম্মতভাবে বিলটি বিধানসভায় পাস হওয়ার পর রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিল স্বাক্ষরের জন্য। সাংবিধানিক নীতি অনুযায়ী বিধানসভা কোনও বিল রাজ্যপালকে পাঠালে সেটা স্বাক্ষর করা তাঁর কর্তব্য।’‌ সাংসদ ডেরেক ও’‌ব্রায়েন বলেন, রাজ্য সরকারকে অপদস্থ করেছেন রাজ্যপাল। স্পিকার বিমান ব্যানার্জি বলেন, রাজ্যপাল গণপিটুনি বিলের উপর যে জবাবদিহি চেয়েছিলেন তা বিধানসভা পাঠিয়ে দিলেও তিনি সেভাবে সহযোগিতা করছেন না।
সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপাল ফের পাল্টা অভিযোগ করেন, বিলের যে বিষয়গুলি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন তার ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত দেয়নি সরকার। আলোচনার কথা বললেও তা শোনা হয়নি। কোনও অফিসারকে তাঁর কাছে পাঠানো হয়নি। গণপিটুনি বিল নিয়ে পরামর্শ দিলেও তা শোনা হয়নি। বিধানসভার স্পিকারকে এব্যাপারে চিঠি দিয়ে বিষয়টি বিশদে জানতে চেয়েছেন তিনি বলে বৈঠকে দাবি করে রাজ্যপাল এদিন ফের বলেছেন, তিনি সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ। যা করেছেন আইন মেনেই করেছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবারই আচার্যর ক্ষমতা খর্ব করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য বিধানসভা।
ছবি:‌ এএনআই    ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top