সাগরিকা দত্তচৌধুরি: প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষ আজও প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। গ্রামে–গঞ্জে গ্রামীণ চিকিৎসকদের কিডনির রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার পাঠ এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে কিডনি কেয়ার সোসাইটি। ৮ বছর ধরে সোসাইটি সচেতনতার পাঠ দিচ্ছে। আগে বিক্ষিপ্তভাবে হলেও এখন সব জেলায় ঘুরে ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, গ্রামীণ চিকিৎসক, এমবিবিএস পাশ করা করা চিকিৎসকদের তো বটেই, পাশাপাশি তৃণমূল স্তরে যাঁরা হেলথ কেয়ার অ্যাসিট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন তাঁদেরও প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়ে গেছে। এবার লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি। তারপর মেদিনীপুর। ভুটান, বাংলাদেশ থেকেও আবেদন এসেছে এরকম প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনের জন্য।
কিডনি কেয়ার সোসাইটির সভাপতি নেফ্রোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ফিজিশিয়ান ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্ত বলেন, ‘‌ভারতে প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ গ্রামীণ চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। কোনও কোনও এলাকায় তাঁরাই দীর্ঘ দিন পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। এঁদের বাদ দিয়ে প্রাথমিক স্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালানো এবং মানুষকে সচেতন করা কঠিন। সব জেলায় সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে কিডনির স্বাস্থ্যের বিষয়ে শিক্ষিত করতে চাই।’‌
আয়োজিত কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতি ব্লক থেকে অন্তত ২–৩ জন করে স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নেন। কীভাবে কিডনির রোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব, দ্রুত রোগনির্ণয় কীভাবে হবে,‌ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, ‌‌কী খাবেন, ‌পায়ে ব্যথা হলে কোন ওষুধ খাবেন প্রভৃতি বিষয় তাঁরা জেনে নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে সচেতন করবেন। তাঁদের জন্য অনলাইন পোর্টাল ‘‌ডিজিজ টু ইজ’‌ তৈরি করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যেই এটি চালু হয়ে যাবে। কিডনি রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্য আপলোড করা হয়েছে।
কিডনির রোগ নিঃশব্দ ঘাতক। কিডনির ৭০ শতাংশ খারাপ না হলে বিশেষ কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। প্রতি ১০০ জনে ১৭ জন কিডনির রোগে ভুগছেন নির্দিষ্ট লক্ষণ ছাড়া। ওষুধের পাশাপাশি যোগের মাধ্যমে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমানো যায়। প্রতিমবাবু বলেন, ‘‌যখন ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়ল তখন রোগীরা এলেন। এতে কোনও লাভ হচ্ছে না। যোগাভ্যাসে  ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, অনিদ্রা, কিছু স্নায়বিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখলে কিডনি খারাপ হওয়া অনেকটাই আটকানো যায়। ওষুধের ডোজও কমে যায়। কিডনি ভাল রাখলে জীবনযাপনের মানও বাড়ে। সিঁথির কাছে হরেকৃষ্ণ শেঠ লেনে সোসাইটির উদ্যোগে যোগের ক্লাস করানো হয়।’‌
এখনও পর্যন্ত ৭৫০টিরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। চিকিৎসাজগতে তাঁর বিভিন্ন অবদানের জন্য এ বছর ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি থেকে গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ‘‌ভারতজ্যোতি অ্যাওয়ার্ড’‌ পেয়েছেন ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্ত। ‌বললেন, ‘এই ধরনের পুরস্কার প্রাপ্তি সত্যিই সম্মানের। তার থেকেও বড় পুরস্কার, যখন কোনও রোগী ভাল হয়ে বাড়ি ফিরে যান।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top