সম্রাট মুখোপাধ্যায়: নন্দন চত্বর এখন কচিকাঁচাদের দখলে। গত রবিবার উদ্বোধন হয়েছে নবম কলকাতা আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের। আর তারপর সপ্তাহভর ছোটদের জন্য নানা দেশের নানারকম ছবির আয়োজন। রূপকথা, অ্যাডভেঞ্চার, জীবনীচিত্র, অ্যানিমেশন, মিউজিক্যাল আয়োজনে খামতি নেই। আছে ‘‌সাহিত্য আর সিনেমা’‌–‌র মতো একটু গম্ভীর একটা বিভাগও। যাতে দেখা যাচ্ছে মার্ক টোয়েন, চার্লস ডিকেন্স, আলেকজান্ডার পুশকিন, এরিখ কেস্টনারদের নানা কাহিনির চিত্রায়ন। ‘‌মাস্টার অ্যান্ড দ্য কিড’‌ বিভাগে যেসব ছবি দেখা গেল তাদের তো তুলনাই নেই। ডিসিকার ‘‌শু সাইন’‌, ডেভিড লিনের ‘‌অলিভার টুইস্ট’‌, তারকোভস্কির ‘‌ইভান্স চাইল্ড হুড’‌, কেন লোচের ‘‌কেস’‌, জাফর পানাহির ‘‌দ্য হোয়াইট বেলুন’‌। আছে তপন সিংহ, স্টিভেন স্পিলবার্গ আর নাগেশ কুকুনুর–‌এর রেট্রোস্পেকটিভও। এমনি কী আর, এখন বলা হচ্ছে এই উৎসব দেখতে ছোটদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকদের হুড়োহুড়িও কিছু কম নয়। ফলে সকাল সকাল ছোটরা তো বটেই, তাদের নিয়ে বড়রাও ভিড় জমাচ্ছেন উৎসব চলা ১০টা হলে।
আর এবারের উৎসবে ‘‌ভূত’‌–‌এর দাপট তো আছেই। নন্দনে ঢোকার প্রবেশপথ ভূতুড়ে কবরখানায় পরিণত। গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় চলছে ভূতের ছবির ইতিহাস নিয়ে এক প্রদর্শনী। যা দেখলে গা–‌ছমছম করে উঠবে। রবীন্দ্র সদনের পেছনে হাফ ডজন জ্যান্ত ভূত নিয়ে ‘‌হন্টেড হাউস’‌ তো আছেই। তাতে ঢোকার পর কান্না জুড়ছে অনেক কচিকাঁচাই ভয়ে, তবু ঢোকা চাই–‌ই। অনেকে আবার নিজের সাহস পরখ করতেও ঢুকছে। আর সব কিছু দেখছে ভূতের রাজার ‘‌ইয়া’‌ বড় মাথা। শিশির মঞ্চের দেওয়ালে ঝুলে থেকে। নন্দন চত্বরের মাঠে, পুকুর পাশে তা সে কী খাবার স্টল, কী বইয়ের স্টল দুই–‌ই সুপারহিট। কচি পায়ে গোটা চত্বর না ঘুরতে পারলে বাসের ব্যবস্থা তো আছেই। সে বাসও আবার ‘‌ভূতুড়ে’‌ বাস। খোলা মাঠে বসে সিনেমা দেখাতেও কসুর নেই কারও।
আর তো হাতে দুদিন। আজ শনিবার। আর কাল রবিবার। একটা ‘‌স্লট’‌ও ছাড়া যাবে না এই দুদিনে। এ দুদিনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বাছাই। ছোটদের আর তাদের অভিভাবকেরও সুবিধের জন্য।
স্ট্রিংস (‌শনিবার, নন্দন ৩, ১২টা)‌:‌ বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বেরোনো এক রাজকুমার হঠাৎই জানতে পারেন বাবা আত্মহত্যা করেছিল। এরপর বদলে যায় তার লক্ষ্য। ডেনমার্কের ছবি।
ডাউচ (‌শনিবার, রবীন্দ্র সদন, ১২টা)‌: ইরানের ছবি মানেই মানবিক গল্প। দশ বছরের গ্রামীণ ছেলে গোলাম রেজার একটা সাইকেল দরকার। কারণ, সাইকেল দৌড়ে জিতে সেই টাকায় সে বাবার ঋণ শোধ করবে।
ক্যাসপার (‌শনিবার, রবীন্দ্র সদন, ৩টা)‌:‌ এক মজার ভূতের ছবি। ছোট ছেলে ক্যাটের সঙ্গে এক পুরনো বাড়িতে মোলাকাত হয় মিষ্টি ভূত ক্যাসপারের। ক্যাটের বাবা ভূত তাড়ানোর ডাক্তার। কিন্তু ক্যাট ভালবেসে ফেলে ক্যাসপারকে।
কালো মেঘের ভেলা (‌শনিবার, শিশির মঞ্চ, ৬টা)‌:‌ বাংলাদেশের এই ছবি সে দেশের প্রবাদপ্রতিম কবি নির্মলেন্দু গুণের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। ছেলেবেলায় বাবাকে হারানো, রেল স্টেশনে বেঁচে থাকা ছোট ছেলে দুখুকে নিয়ে এই ছবি। এক সময় সে তার মাকেও ছেড়ে চলে যায় সৎবাবার অত্যাচারে।
দ্য টেল অফ জার সুলতান (‌শনিবার, রবীন্দ্রতীর্থ, ১২টা)‌:‌ রাশিয়ার ছবি। পুশকিনের সাহিত্যনির্ভর। এক জার, তার বউ আর তার দুই দুষ্ট বোনকে নিয়ে রূপকথাধর্মী এ গল্পের সঙ্গে প্রচুর মিল ‘‌ঠাকুরমার ঝুলি’‌–‌র গল্পের।
স্টর্ম বয় (‌রবিবার, নন্দন‌ ২, ১২টা)‌:‌ অস্ট্রেলিয়ার ছবি। এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীর চোখের সামনে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে অতীতের কিছু ছবি। তার মধ্যে আসে ছেলেবেলায় এক পেলিকানকে উদ্ধার করার ঘটনা।
লিট প্রিন্স অফ আওয়ার সিটি (‌রবিবার, রবীন্দ্র সদন, ৩টে)‌:‌ একটি ছেলের সঙ্গে দেখা হয়  তার ঠাকুরদার নামের এক বৃদ্ধ মানুষের। গড়ে ওঠে এক নিবিড় বন্ধন।
বয় অন দ্য ব্রিজ (‌রবিবার, রবীন্দ্রতীর্থ, ৩টে)‌:‌ এ ছবিরও কেন্দ্রে এক ১২ বছরের ছেলে। ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়িতে এসে জড়িয়ে পড়ে এক খুনের তদন্তে। সাইপ্রাসের ছবি।
পাঠশালা (‌রবিবার, স্টার থিয়েটার, ১০টা)‌:‌ বাংলাদেশের এই মর্মস্পর্শী ছবির চিত্রনাট্য গড়ে উঠেছে কিশোর মানিকের লেখাপড়া শেখার চেষ্টাকে ঘিরে। শহরে এসে সে স্কুলে ভর্তি হয়। সাহায্য করে ৮ বছরের চুমকি।
আলফানসো জিটারবিট–‌ কাউন্টডাউন টু ক্যাওস (‌রবিবার, নন্দন ১, ৬টা)‌:‌ এটাই উৎসবের সমাপ্তি ছবি। দুই প্রতিবন্ধী বন্ধুর মজাদার প্রতিযোগিতা আর তা ঘিরে তৈরি হওয়া কৌতুক নিয়ে জার্মানির এই ছবি।‌‌

নন্দন চত্বরে ভূতের রাজা। ছবি:‌ অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

জনপ্রিয়

Back To Top