সৌগত চক্রবর্তী: • এই সপ্তাহে মুক্তি পেল ‘‌কিডন্যাপ’‌। এটা কি মেনস্ট্রিম ছবিতে দেবের প্রত্যাবর্তন?‌
•• অবশ্যই তাই। গত কয়েক বছর ধরে আমি ছবির কনটেন্টের ওপর জোর দিয়েছি। এই ছবিতেও তাই। এতে একটা সুন্দর গল্প আছে। দুটো সত্য ঘটনাকে ভিত্তি করে এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন এন কে সলিল। ওমেন ট্রাফিকিং বা মহিলাদের নানা ছলে ভুলিয়ে বিদেশে পাচার করার যে চক্র রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে এই ছবির গল্প। বলতে পারেন, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়েই আমরা চেষ্টা করেছি ছবিটাকে অ্যাকশন আর গান দিয়ে জনজমাট করে তোলার।
• ‘‌চ্যাম্প’‌ থেকে ‘‌কবীর’‌ হয়ে ‘‌ককপিট’‌—আপনার প্রোডাকশনের সব ছবিতেই নায়িকা রুক্মিনী। কেন?‌
•• আমি নয়, রুক্মিনীকে ছবিতে কাস্ট করেছেন পরিচালক রাজাদা (‌রাজা চন্দ)‌। আমার মনে হয় প্রত্যেক পরিচালকই চাইবেন রুক্মিনীকে ছবিতে ‘‌কাস্ট’‌ করতে। এর কারণ বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে রুক্মিনী। বিভিন্ন রকম রোলেই ফিট করে যায় রুক্মিনী। ‘‌চ্যাম্প’‌ ছবিতে গৃহবধূ, ‘‌কবীর’‌ ছবিতে সন্ত্রাসবাদী বা ‘‌ককপিট’‌ ছবিতে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট—এর কোনওটাতেই কি বেমানান নেগেছিল রুক্মিনীকে?‌ আর রুক্মিনীর শেখার আগ্রহও খুব। শুটিং-‌এর সময় চরিত্র সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করে আমার আর রাজাদার কান ঝালাপালা করে দিয়েছিল রুক্মিনী। সব মিলিয়ে রুক্মনী যে কোনও পরিচালকের অনায়াস ‘‌চয়েস’‌ হতে পারে।
• ‘‌কিডন্যাপ’-‌এর যৌথ প্রযোজনায় আপনার দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চার ও সুরিন্দার ফিল্মস। একই সঙ্গে প্রযোজনা ও অভিনয় সামলাতে অসুবিধে হয় না?‌
•• অসুবিধে হওয়ার তো কোনও কারণ নেই। আমি সব সময়ই নিজের কাজে অত্যন্ত ‘‌ফোকাসড’‌। আর চাপ নিয়েই কাজ করা পছন্দ করি আমি। রাজনীতি, ছবি প্রযোজনা, প্রমোশন হাজার কাজে ব্যস্ত থাকলেও যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই তখন কিন্তু অন্য সব কিছু আমার মন থেকে মুছে যায়। তখন শুধুমাত্র একজন অভিনেতা আমি।
• আগে থেকেই কি ঠিক ছিল এই ছবির নাম হবে ‘‌কিডন্যাপ’‌?‌
•• না, প্রথমে ছবির নাম ঠিক হয়েছিল ‘‌সওদা’‌। পরে রানের পরামর্শ মতো ঠিক হয় ‘‌কিডন্যাপ’‌। এই ছবিতে সব অ্যাকশন দৃশ্যই রিয়্যালিস্টিক। একটা ছবিকে কীভাবে লার্জার দ্যান লাইফ করা যায় সেটা রাজাদা ভালই জানেন। এই অ্যাকশন দৃশ্যর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছু সুন্দর গান। সব মিলিয়ে আমি ‘‌কিডন্যাপ’‌ সম্পর্কে বেশ আশাবাদী। কারণ এটা একটা কনটেন্ট ওরিয়েন্টেড কমার্শিয়াল ফিল্ম।
• কনটেন্ট ওরিয়েন্টেড কমার্শিয়াল ফিল্ম বলছেন কেন?‌
•• এখন তো নেটফ্লিক্স আর আমাজনের যুগ। সেখানে অনেক নিত্য নতুন ছবি দেখতে পারছেন মানুষ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে তার সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে নিজেদের পাল্টাতে হবে। নাচ আর গান জুড়ে দিলেই একটা বোকা বোকা গল্প দিয়ে কমার্শিয়াল ছবি হয় না। এখন কি আপনি ‘‌পাগলু’‌ দেখতে যাবেন?‌ আপনি কেন, আমিও দেখতে যাব না। আসলে ‘‌কিডন্যাপ’ কে কনটেন্ট ওরিয়েন্টেড কমার্শিয়াল ফিল্ম বলছি কারণ, ছবির কালার প্যালেট, কস্টিউম বা একটা সিনে যতটা সম্ভব রিয়্যালিস্টিক ফিল দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা।‌ শুটিং হয়েছে ব্যাঙ্কক, দুবাই, কলকাতা—যেখানে যেখানে আমরা এই ওমেন ট্রিফিকিং-‌এর রুটের সন্ধান পেয়েছি আমরা।
• এখন তো ওয়েব সিরিজের যুগ চলছে। একজন প্রোডিউসার হিসেবে কি ওয়েব সিরিজের কথা ভাবছেন?‌
•• একদমি ভাবছি না। কারণ, তাতে অনেকটাই কম্প্রোমাইজ করা হবে। আমি তো শুধু প্রোডিউসার হওয়ার ইচ্ছে হয়েছে বলেই প্রোডিউসার হইনি। আমার প্রোডিউসার হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় কারণ হল, যে ছবিটা সাহস করে অন্যরা করবে না, সেই ছবিটা করা। সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়ে। কাজেই এখন ওয়েব সিরিজ করলে আমার সেই ফোকাসটা শিফট করে যাবে। আপনিও তো মানেন, দেব প্রোডিউসার হিসেবে সাহসী কাজ করছে। তাহলে সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেব কেন?‌ শুধু টাকা রোজগারের জন্যে?‌ খুব বেশি টাকার তো দরকার নেই আমার?‌ আই অ্যাম হ্যাপি। ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌

 ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top