কলকাতায় মেট্রো রেল যখন চালু হয়, আলোড়ন হয় প্রবল। ঠিক সময়ে, মসৃণ চলাচল, সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি, যদিও প্রাথমিক সংশয় ছিল মানুষের। প্রথম কলকাতা চলচ্চিত্রোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, ‘‌এই শহরের দুটো বিষয় নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, কলকাতা মেট্রো এবং ফিল্ম–‌সংস্কৃতি নিয়ে কলকাতাবাসীর অফুরন্ত তৃষ্ণা।’ সেই মেট্রো ঘিরে এখন চরম আতঙ্ক। বহু মানুষ যাতায়াত করেন। সময় বাঁচে তো বটেই, স্বাচ্ছন্দ্যও উপভোগ করে এসেছেন যাত্রীরা। পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে সজল কাঞ্জিলালের শোচনীয় মৃত্যু নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে উঠতে গিয়েছিলেন সজলবাবু, হাত ভেতরে, দরজা বন্ধ হওয়ার কথা নয়, তবু তা–‌ই হল। আটকে গেল হাত, সেই অবস্থাতেই চলল মেট্রো। বেশ কিছুটা ঝুলে থাকলেন, ধাক্কা সুড়ঙ্গে, মৃত্যু। সজল লিটল ম্যাগাজিন বিক্রি করতেন, আয় সামান্য। নাটকের সঙ্গে যোগ ছিল। একদা ছিলেন মমতাশঙ্করের ট্রুপেও। সুবোধ সরকারের কবিতার শেষ লাইন:‌ ‘‌তাঁকে তোমরা এভাবে মেরে ফেললে মেট্রো?’‌‌ ব্যক্তির গাফিলতি ছিল‌, কিন্তু কীভাবে দরজা বন্ধ হয়ে গেল (‌যা হওয়ার কথা নয়)‌?‌ কামরার যাত্রীরা ফোন করেও চালক বা অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তকে পেলেন না কেন?‌ নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে পড়ল না কেন?‌ কামরার নীচে আগুন, এসি কামরার যন্ত্র বিকল হয়ে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা, সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে পড়া, চলতেই থাকে। আতঙ্ক। জনসংযোগ আধিকারিককে আক্রমণ করা ঠিক নয়, তাঁর কাজই তো সংস্থার বক্তব্য তুলে ধরা। কর্তারা কী করছেন?‌ মমতা ব্যানার্জি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, মেট্রোর দেখভাল ছিল দেখার মতো। এখন কেন গাফিলতি?‌ দিল্লি মেট্রোয় উন্নত প্রযুক্তি, বাজেট বরাদ্দ বিপুল। কলকাতা বঞ্চিত কেন?‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top