৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে কেন্দ্রের প্রচার শুনে মনে হতে পারে, দয়া করে দেওয়া হয়েছিল, এখন প্রত্যাহার করা হল। জয় নরেন্দ্র মোদি–‌অমিত শাহ!‌ ঘটনা হল, কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেছিলেন শেষ রাজা হরি সিং। এই ধারা ভারতভুক্তির অপরিহার্য অংশ। প্রচার, শুধু কাশ্মীরেই অদ্ভুত ব্যাপার, অন্য রাজ্যের লোকেরা জমি কিনতে পারতেন না। বাস্তব, ভারতের ১১টি রাজ্যে, বিশেষত উত্তর–‌পূর্বে, অন্য রাজ্যের মানুষ জমি কিনতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকার কি সেই বাধা তুলে দিতে পারবে?‌ কাশ্মীরে জমি কেনার জন্য আগ্রহ কতজন দেখান, সেটাও দেখার আছে। ৩৭০ এবং ৩৫এ বাতিল, লাদাখকে আলাদা করে দেওয়া, কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেওয়া, এসব কেন?‌ ঘুরেফিরে শাসক দলের যুক্তি, বিশেষ ব্যবস্থা চাই কাশ্মীরের জন্য। বিজেপি–‌র, মোদি সরকারের অগ্রাধিকার জঙ্গি দমনে, সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম বন্ধ করার লক্ষ্যে। সেই সূত্রে বলা হচ্ছে, ২০১৪ সাল থেকেই, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই লক্ষ্যে কেন্দ্র স্থির, বদ্ধপরিকর। বাস্তব, গত পাঁচ বছরে আড়াই গুণ বেড়েছে জঙ্গি কার্যকলাপ। বাহিনী পাঠিয়ে, যত কড়া হয়েছে কেন্দ্র, ততই বেড়েছে হিংসা। ‘‌কঠোর’‌ কেন্দ্র কমাতে পারেনি। হ্যাঁ, বেড়েছে আড়াই গুণ। জঙ্গিদের হাতে মৃত্যু হয়েছে অনেক কাশ্মীরির। অনেক পুলিশেরও, যাঁরা কাশ্মীরি, মুসলিম। প্রচার, বিশেষ ধারায় সুবিধা দিতে গিয়ে কাশ্মীরে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছিল কেন্দ্রকে, যা কার্যত অন্য রাজ্যগুলোর ওপর অবিচার। বাস্তব, যত খরচ হয়েছে, তার অধিকাংশই সেনা ও আধাসেনা রাখতে গিয়ে, দমননীতি বাড়াতে গিয়ে। বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ হল। খরচ কমবে?‌

জনপ্রিয়

Back To Top