প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বিজেপি নেতারা বলতেন ‘‌মৌনমোহন সিং’‌। মনমোহন সত্যিই কম কথা বলতেন। প্রয়োজনের তুলনায় কমই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে কম কথা বলার অভিযোগ কেউ তুলতে পারবেন না। সাংবাদিক বৈঠকে আসেন না। জনসভায়, টেলিভিশনে ভাষণে, ‘‌মন কি বাত’‌ অনুষ্ঠানে তঁার কথা অজস্র, ঢেউখেলানো কণ্ঠ। নাটকীয়। গালোয়ানে চীন সীমান্ত লঙ্ঘন করার পর অতি–‌জাতীয়পন্থী আবেগদীপ্ত ভাষণ শোনা যাবে, দেশবাসী আশা করেছিলেন। ‘‌মন কি বাত’‌–‌এ বললেন, ভারত বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে জানে। কিন্তু কেউ যদি চোখে চোখ রেখে ঔদ্ধত্য দেখায়, স্পষ্ট জবাব দিতেও জানে। ভারতীয় সৈনিকরা বীর। জানি। প্রধানমন্ত্রী নতুন কী বললেন?‌ নির্বাচনী সভায়, প্রয়োজনে অন্য সময়েও যে তেজ দেখি, তা কোথায়?‌ দরকার নেই আবেগের, নাটকের। প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে একটা দিক উল্লেখযোগ্য। চোখে চোখ রেখে ঔদ্ধত্য, জবাব দিতে জানা ইত্যাদি বোঝা গেল। সীমান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে, বললেন না। কোন দেশ শত্রুতা করল, উল্লেখ নেই। বিস্ময়, একবারও ‘‌চীন’‌–‌এর নাম উচ্চারণ করলেন না। কেন, কেউ বুঝলেন?‌ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকব সবাই। কিন্তু, প্রকৃত তথ্যটা যেন প্রধানমন্ত্রী জানান। ওই বৈঠকের শেষে মোদি যা বললেন, রীতিমতো বিস্ময়কর:‌ ‘‌কেউ ঢোকেনি, কেউ ভারতের জমি দখল করে নেই, কোনও পোস্ট অন্য দেশের দখলে যায়নি।’‌ তাহলে, বিদেশমন্ত্রক কি ভুল তথ্য দিয়েছিল?‌ কেন ২০ ভারতীয় জওয়ানের প্রাণ গেল?‌ কবে বলবেন?‌  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top