দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নিঃসন্দেহে রেল। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা, কিছু গাফিলতি, কিন্তু সারা বছর, বছরের পর বছর দেশবাসীর সেবায় সদাজাগ্রত রেল। রেলকর্মীদের নৈপুণ্য ও পরিশ্রম সংস্থাকে শক্তিশালী করেছে। লালবাহাদুর শাস্ত্রী, মাধবরাও সিন্ধিয়া, লালুপ্রসাদ যাদব, মমতা ব্যানার্জির মতো কয়েকজন রেলমন্ত্রী সংস্থাকে আরও দক্ষ ও জনমুখী করেছেন। মোদি সরকার রেলমন্ত্রীর পদটা রাখল বটে, তুলে দিল রেল বাজেট। গুরুত্ব কমানো হল ভেবেচিন্তে। এবার বেসরকারীকরণের পথে প্রথম ধাপ ঘোষিত। ইতিউতি শোনা যাচ্ছিল, এখন ব্যাপারটা পরিষ্কার। ১০৯টি রুটে ১৫১টি ট্রেন তুলে দেওয়া হবে পছন্দসই কোম্পানির হাতে। জানানো হল, এই সূত্রে ৩০ হাজার কোটি টাকা আসবে কেন্দ্রের তহবিলে। বাংলার সঙ্গে যুক্ত ১৫টি রুট। তীর্থ, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য সাধারণ বাঙালি যেসব জায়গায় যান, কোপ পড়ছে। বলা হয়, রেলের অনেক ক্ষতি, কারণ ভাড়া বাড়ানো যাচ্ছে না। বেসরকারি সংস্থা আসবে ভাল রুট বেছে, এবং ভাড়া বাড়াবে ইচ্ছামতো। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভাড়ার ব্যাপারটা বেসরকারি সংস্থার হাতেই থাকবে। ভারতীয় রেলকে বলা হয় দেশের ‘‌লাইফলাইন’‌। জীবন রেখা। অসংখ্য গরিব, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ যাতায়াত করেন। ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, বোঝা চাপবে সন্দেহ নেই। একই রুটে অন্য ট্রেনগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। ভারতীয় রেল লাভের কথা ভাববে, শুধুই লাভের কথা, এতদিন পর্যন্ত কেউ ভাবেননি। কিছু চাকচিক্য এনে ভাড়া বাড়বে বিপুল। ক্রমশ অনেক স্টেশন, অবশ্যই আরও অনেক ট্রেন যাবে বেসরকারি হাতে। এমন জনবিরোধী পথে যাওয়ার কথা এর আগে কোনও সরকার ভাবেনি। এই সরকার ভাবছে। চরিত্র স্পষ্ট হচ্ছে।   ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top