আবার ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। ১১ থেকে ১৩ মার্চ। শনি, রবি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিন কাজ হবে না। পঁাচ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ মানে দেশের অর্থনীতিতে যে বড় ধাক্কা তাতে কোনও সন্দেহ নেই। যাঁরা ধর্মঘট ডেকেছেন, তাঁরা নিশ্চয় সেই ধাক্কাই দিতে চাইছেন। ধাক্কা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে তঁাদের দাবিদাওয়া আদায় করতে চাইছেন। ব্যাঙ্কের কর্মচারী এবং অফিসার সংগঠন চিরকালই শক্তিশালী। তাঁরা যখন আন্দোলন করেন, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়। তাঁরা যে দাবিদাওয়া তুলছেন তা হয়তো ন্যায্য। হয়তো কেন, ন্যায্যই। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই ব্যাঙ্ককর্মীদের প্রবল পরিশ্রম করতে হয়। সাধারণ মানুষ কোনও শাখায় গেলেই বুঝতে পারে, কর্মী সংখ্যা কত কম। অল্প কর্মী, বেশি ঝঁুকি নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। দাবি আদায়ের জন্য তাঁদের আন্দোলন করবার অধিকার রয়েছে। রয়েছে প্রয়োজনও। প্রশ্ন পথ নিয়ে। দেশের এই ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পঁাচ দিনের জন্য আরও ভেঙে দেওয়া ছাড়া কি আন্দোলনের অন্য কোনও পথ নেই?‌ এখন কি কাজ বন্ধ করে দেওয়ার আন্দোলন চলে?‌ কাজ বন্ধ করলে সরকার না দেশের মানুষ,‌ কার বেশি ভোগান্তি?‌ দেশের অধিকাংশ মানুষই কিন্তু এই মুহূর্তে ব্যাঙ্ককর্মীদের মতো সরকারের ওপর বিরূপ। একই বিশ্বাসের মানুষকে অসুবিধের মধ্যে ফেলাটা কি নৈতিকভাবে উচিত?‌ কোনও কোনও জরুরি পরিষেবা রয়েছে, যেখানে ধর্মঘট ঠিক নয়। দমকল, শ্মশানের কর্মীবন্ধুরা কি কোনও দাবিতে কাজ বন্ধ করতে পারেন?‌ রেডিও, টিভি স্তব্ধ হয়?‌ আজকের দিনে রেলে, ‌বিমানে ধর্মঘট সম্ভব?‌ সেনা বা পুলিশকর্মীরা কি বলতে পারেন আজ কাজ করব না?‌ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যাঁরা উদ্ধারের কাজে যুক্ত থাকেন, তাঁরা কি কখনও হাত গুটিয়ে বসতে পারেন? না, পারেন না।‌ ব্যাঙ্ক কি জরুরি পরিষেবা নয়?‌ হঠাৎ কোনও বিপদে টাকা লাগলে মানুষ কোথায় যাবেন?‌ ব্যাঙ্কেই তো ছুটবেন। সব বিপদের কথা ভেবে তো বাড়িতে টাকা রাখা যায় না। ব্যাঙ্ক অবশ্যই জরুরি পরিষেবা। সরকার না বুঝতে চাক, ব্যাঙ্কের কর্মী, অফিসাররা তো বোঝেন। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top