‌ভয়াল ভাইরাসে পৃথিবী কঁাপছে, ভারতে সঙ্কট বাড়ছে, কেন্দ্রের ন্যূনতম সহায়তা ছাড়াই রাজ্যগুলো লড়ছে। অর্থনীতি এখনও প্রায় স্তব্ধ। পরিস্থিতি ক্রমশ সঙ্কটজনক হচ্ছে। পৃথিবীর কোনও দেশের সরকার এখন বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। পাখির চোখ টিকা। মানুষ কান পেতে আছে, কবে আসবে সুসংবাদ। বঁাচার পথ। ভারতের সরকার ব্যতিক্রম। রেল বিক্রির দিকে এগোনো, কয়লা–‌সহ নানা ক্ষেত্রে বেসরকারীকরণের ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত হল মারাত্মক শিক্ষানীতিও। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কোভিডের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ লড়বে সরকার, প্রত্যাশিত। ভারত সত্যিই ব্যতিক্রম। অনেক বিরোধী নেতা এবং শিক্ষাবিদ সবার আগে একটা কথা বলছেন। যে, সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক ছাড়াই কী করে এত বড় সিদ্ধান্ত ঘোষিত হল?‌ কিন্তু, এটাই বড় কথা নয়। তাড়াহুড়ো কেন, নিশ্চয় বড় প্রশ্ন। কিন্তু, যখন সংসদ বসবে, সংখ্যার জোরে এবং গোপন বন্ধুদের সাহায্যে বিল পাশ করতে অসুবিধা হবে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, শিক্ষা যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। রাজ্যের সম্মতি দরকার। এই শিক্ষানীতির প্রধান তিনটি উদ্দেশ্য— কেন্দ্রীকরণ, গৈরিকীকরণ এবং বাণিজ্যকরণ। একটা বিষয় তুলে ধরা যাক। শুরুর দিকেই তিনটি ভাষা পড়তে হবে। এক, মাতৃভাষা। দুই, বলা যায়, ইংরেজি। উচ্চশিক্ষা ও কাজের প্রয়োজনে ইংরেজি। তৃতীয় ভাষা কী?‌ ধরা যাক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্র, কেরল। ছাত্রছাত্রীরা তামিল বা তেলুগু বা মালয়ালমের সঙ্গে ইংরেজি নেওয়া হল। তৃতীয় ভাষা?‌ বাংলায় বাংলা, ইংরেজির সঙ্গে তৃতীয় ভাষা কী হবে?‌ হিন্দি সিনেমার দাপট অনস্বীকার্য। একটু হিন্দি জানে সবাই। নিতে হবে হিন্দি। আসলে, হিন্দিস্তান!‌    ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top