কাশ্মীরে নাকি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। সরকার বলছে। ৩৭০ ধারা বিলোপ এবং পূর্ণরাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত করে দেওয়ার পর কাশ্মীরে বড় অশান্তি হয়নি, সত্যি। মাঝেমাঝে জঙ্গি–‌সেনা সঙ্ঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, মৃত্যুও ঘটে। কিন্তু বিশাল গন্ডগোল হয়নি। হতে পারে, বড়সড় অশান্তি পাকানোর জন্য সময় নিচ্ছে পাক মদত‌পুষ্ট জঙ্গিরা। ঘোষণার দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কয়েকটা কথা জুড়ে দিয়েছিলেন। যথা, ২০১৯ সালের অক্টোবরে শিল্প সম্মেলন হবে শ্রীনগরে, তাতে দেশের (‌পরে বিদেশেরও)‌ শিল্পপতিরা আসবেন। শিল্পের বান ডাকবে ভূস্বর্গে। সম্মেলন হয়নি। কোনও শিল্প হওয়ার খবর আসেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বলিউডের প্রযোজকরা যাবেন, আগের মতো বহু ফিল্মের শুটিং হবে উপত্যকায়। রোজগার বাড়বে স্থানীয় মানুষের। গিয়েছেন কি প্রযোজকরা?‌ হচ্ছে কি শুটিং?‌ খবর নেই। মানে, হয়নি। বলেছিলেন, ভূস্বর্গে পর্যটনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। হল কি?‌ না। এদিকে, কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বন্দি। ফারুক আবদুল্লা গৃহবন্দি। ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি সরাসরি বন্দি। জন নিরাপত্তা আইন (‌পিএসএ)‌ প্রয়োগ করে দুজনকে আরও ৬ মাসের জন্য বিনা বিচারে বন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হল। সরকার বলেছে, মেহবুবা মুফতি পাক–‌পন্থী জঙ্গিদের সমর্থক। অনেক মারাত্মক কথা বলে বেড়াতেন বেশ কয়েক বছর ধরে। প্রশ্ন, মাত্র তিন বছর আগে মেহবুবার নেতৃত্বে জোট সরকার করেছিল কেন বিজেপি?‌ ওমর আবদুল্লা সম্পর্কে অদ্ভুত কথা বলা হয়েছে। তিনি নাকি সোশ্যাল মিডিয়াতে বিরাট প্রভাবশালী। এত জনপ্রিয় যে, জঙ্গিরা বয়কটের ডাক দিলেও ওমরকে এবং ওমরের দলকে ভোট দিতে ভিড় করেন মানুষ। যা দাঁড়াল, যেহেতু জনপ্রিয়, বন্দি রাখতে হবে!‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top