না না। রামচন্দ্র যে এক বিশিষ্ট পৌরাণিক চরিত্র, এই কথাটাকে ‘‌মিথ্যা’‌ বলছি না। যেমন রামধাক্কা, তেমন রাম মিথ্যা। সেই অর্থে। কোভিড–‌১৯ কী করলে হবে না, প্রায় একশোরকম মিথ্যা ছড়িয়েছে। দিল্লিতে সেই গোমূত্র যজ্ঞ। প্রচার, গোমূত্র খেলেই করোনাভাইরাস থেকে রেহাই। বোতলে পুরে গোমূত্র বিক্রি শুরু হল। কলকাতা, উপকণ্ঠেও দু’‌টি জায়গায়। পুলিশ দ্রুত গ্রেপ্তার করল বিক্রেতাদের। রটল, রোদে ২০ মিনিট দঁাড়ালেই রেহাই। রোদে গা পুড়ল, সুবিধে হল না। থেমে গেল। রটানো হল, শিলের ওপর নোড়া দঁাড় করিয়ে রাখলেই নিরাপদ। সেই রটনা গেল। সোশ্যাল মিডিয়ায়‌ ছড়ানো হল, একটি হোমিওপ্যাথিক দু’‌দিন খেলেই আপনি ভাইরাসের হানা থেকে মুক্ত, নিরাপদ। শোনা গেল, এক আবাসনে সবাই খেলেন এবং নিশ্চিত থাকলেন। কয়েকদিন পরেই সেই আবাসনে দু’‌জন আক্রান্ত। রটনার আয়ু শেষ হল। রামদেব, বাবা রামদেব বিখ্যাত লোক। যোগগুরু। ‘‌পতঞ্জলি’‌ নামে ব্যবসা ফঁাদলেন, সহযোগী বালকৃষ্ণ,  ওষুধ থেকে ঘি, একশো রকম পণ্য। বিপুল প্রচার। গুরুর সাহস নিয়ে সন্দেহ নেই। দিল্লিতে যখন আইন ভেঙে সমাবেশ করেছিলেন, পুলিশ হাজির হয়। উঁচু মঞ্চ থেকে ঝঁাপ, যোগগুরু, নিমেষে সালোয়ার কামিজ পরে পালালেন। সম্প্রতি পতাঞ্জলি সংস্থা দুটো ওষুধ আনল। খেলেই নিরাপদ, করোনা হবে না। করোনিল, শ্বাসরি। ‌হইচই শুরু হতেই কেন্দ্রীয় আয়ুষ দপ্তর জানাল, পরীক্ষা করা হবে, তার আগে যেন বিক্রি না হয়। নরম শাসন। উত্তরাখণ্ডের এক অফিসার কড়া চিঠি দিলেন। জানালেন, ওষুধ দুটোর জন্য অনুমোদন চেয়ে আবেদনে বলা হয়েছিল, সর্দি–‌কাশির ওষুধ। বন্ধ করুন। লোক ঠকানোর কারবার চালিয়েও তিনি, রামদেব, ‘‌নিরাপদ’‌। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top