বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় নিশ্চয় রেকর্ড গড়ছেন। কোনও রাজ্যে শুনেছে কেউ, রাজ্যপাল বিভিন্ন অফিসে গিয়ে বসে পড়ছেন?‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট বৈঠক স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও পৌঁছে গেলেন। কর্তৃপক্ষকে সকালে বার্তা পাঠালেন, দুপুরে যাবেন। কারও কাজ থাকতে পারে, ভাবেননি। গিয়ে, বসে পড়লেন উপাচার্যের ঘরের সামনে চেয়ার পেতে। চা–‌পান করতে করতে সাংবাদিকদের কাছে বিষ উগরে গিলেন। কোনও স্কুলের অনুষ্ঠানে গিয়েও কটূক্তি রাজ্য সরকারকে। শিক্ষা ব্যবস্থার হাল খারাপ, প্রচার করেন। যেখানে–‌সেখানে, যখন–‌তখন পৌঁছে কটু কথা। লক্ষ্য রাজ্য সরকার। কেন কপ্টার থাকবে না তাঁর জন্য, কেন কাটআউটে ছবি নেই তাঁর, অবিরাম ক্ষোভ। আমরা বলতে চাই, ধনকড় ব্যতিক্রম। এত নীচে কেউ নামেন না। কিন্তু, মূল প্রশ্ন, রাজ্যপাল পদটা কেন থাকবে?‌ এখানে বিরোধীরা বলছেন, গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর আমলে নাকি রাজভবন ‘‌তৃণমূল ভবন’‌ হয়ে গিয়েছিল। ভুল, দুজনের মধ্যে তুলনা হয় না। গোপালকৃষ্ণ শুধু একটি ক্ষেত্রে প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। নন্দীগ্রাম। তাঁর মনে হয়েছিল, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক, নিজের বক্তব্য প্রকাশ করা দরকার। সিঙ্গুরের ক্ষেত্রে তিনি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা চেয়েছেন। সংবিধান প্রণেতারা নিশ্চয় ভেবেচিন্তে পদটা রেখেছিলেন। কিন্তু, ১৯৫৯ থেকেই অপব্যবহার শুরু। বিজেপি নিশ্চয় অন্যায় করছে, কিন্তু কংগ্রেস আমলে, যখন নিরঙ্কুশ প্রাধান্য ছিল, অসংখ্য অন্যায় হয়েছে। প্রশ্ন, রাজ্যপাল না থাকলে, অনিশ্চিত বিধানসভা হলে, নতুন সরকার গড়ায় কে দায়িত্ব নেবেন। কেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তিনি আইন কম বোঝেন না নিশ্চয়। কত বড় জায়গা, কত যে খরচ, ‘‌শ্বেতহস্তী’‌, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কুঠারাঘাত। বামপন্থীরা শুরু থেকেই রাজ্যপাল পদ বিলোপের কথা বলেছেন। কিন্তু, রাজ্যে দেখছি, উল্টো। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও পুরনো দাবিটা তুলছে না। সময় এসেছে, রাজ্যপাল পদ বিলোপের।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top