নরেন্দ্র মোদি কতবার বিদেশে যান, তার খবর, ছবিও প্রকাশিত হয়। মনে হয়, যেন বিদেশ সফরই তাঁর প্রধান কাজ। বিদেশমন্ত্রী পদটাকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে সুষমা স্বরাজের সময়ে। জয়শঙ্কর বিজেপি–‌র নেতা নন। আইএফএস অফিসার হিসেবে বুঝে নিলেন, কতটুকু তাঁর কাজ। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পাঠাচ্ছেন কিছু দেশে, সারা বছর তো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বাইরে থাকা সম্ভব নয়। ইচ্ছা থাকলেও অসম্ভব। বিশেষ দূত হিসেবেই কাজ করছেন জয়শঙ্কর। কেন এত, প্রশ্ন সঙ্গত ও স্বাভাবিক। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি তো প্রধানমন্ত্রী, তা–‌ও একটা বাহানা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে যেতেই হয়, কিছু ক্ষেত্রে না–‌গেলেও হত। বিপুল ব্যয়ের হিসেবও প্রকাশিত। জওহরলাল নেহরু ছিলেন আন্তর্জাতিক নেতা, ‘‌পঞ্চশীল’‌–‌এর প্রধান সংগঠক। তবু, মোদির তুলনায় দশ শতাংশও সফর করেননি। মনমোহন সিং গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তিনিও অনেক কম বার গেছেন বিদেশে। মোদি কেন এতবার,‌ প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু, রাহুল গান্ধীকে কেন এতবার যেতে হয়?‌ জানা গেল, গত ৪ বছরে ১৬ বার বিদেশে গেছেন। তার মধ্যে ৯ বার কোথায় গেছেন, কেন গেছেন, অপ্রকাশিত। কংগ্রেস নেতারা এড়িয়ে গেছেন। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রী নন, তাঁকে কেন এতবার বিদেশে যেতে হয়?‌ সংসদীয় মন্ত্রী সাংসদদের জানিয়ে দেন, বিদেশে গেলে যেন জানিয়ে রাখেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে সরকারের। রাহুল জানাচ্ছেন না। দু’‌বছর আগে আড়াই মাসের জন্য, সম্ভবত থাইল্যান্ডে। বিপাসনা পর্ব। ধ্যান, যাতে মানসিকভাবে তৈরি হতে পারেন। আরও ৩ বার সেই ধ্যান। ধ্যানের জন্য বিদেশে?‌ কর্ণাটকে যখন জোট সরকার টলমল, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি বিদেশে। এবার যখন হরিয়ানায় অপ্রত্যাশিত ফল, মহারাষ্ট্রে জট, তিনি বিদেশে। রাজনীতিতে যদি অনিচ্ছুক হন, থেকে কী লাভ?‌  ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top