বালাকোট–‌হানা না হলে বিজেপি ১৬০ আসনও পেত না। ক’‌দিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তাঁকে বিজেপি–‌র শীর্ষ জুটি দেখতে পারেন না এই ধরনের মন্তব্যের জন্যই। স্বামী সততার সঙ্গেই ওই সংখ্যাটি উচ্চারণ করেছেন বলে ধরে নিলে, অঙ্ক কষে দেখতেই হয় বালাকোট ১৬০ থেকে কতটা ঠেলে তুলতে পারবে মোদিকে। আরও ৪০?‌ তাহলেও ২০০। মমতা ব্যানার্জি কিন্তু ১৬০ অঙ্কটি ধরেই এগোচ্ছেন। বিজেপি–‌কে ২০০–‌র নীচে ধরে রাখতে কংগ্রেসের উত্থান চাই। কংগ্রেস কত পেতে পারে?‌ প্রবীণ চক্রবর্তীর মতো কংগ্রেসি নির্বাচনী–‌পণ্ডিতদের ধারণা, ২০১৪–‌র তিনগুণ বেশি পেতে পারেন রাহুল গান্ধী। সেক্ষেত্রে দাঁড়ায় ১৩২। সম্ভব?‌ জানা নেই। তবে ১০০ আসনের যত ওপরে উঠবে কংগ্রেস, ততই ক্ষীণ হবে মোদির ফেরার সম্ভাবনা— এটুকু বলেই দেওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, গতবার বিজেপি–‌র জেতা ২৮২ আসনের মধ্যে ১৬৭ কেন্দ্রে কংগ্রেস হয়েছিল দ্বিতীয়। বাকি ৩৮টি এসেছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে। অর্থাৎ কংগ্রেসকে ১০০ পেরোতে হলে বিজেপি–‌র হাত থেকে ৬০টি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, গুজরাট, বিহার, ঝাড়খণ্ডের দিকে নজর রাখলে সেটা অসম্ভব মনে হচ্ছে না। হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র থেকে আরও কিছু। হরিয়ানায় আরও কিছু, দিল্লিতেও। এমনও হতে পারে, এসব কোনও অঙ্কই মিলল না। কিন্তু মোদি–‌শাহ জুটি ব্যর্থ হলে তার কারণটা বলেছেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। ক্ষমতার অতি–‌কেন্দ্রীকরণ মোদির পতনের কারণ হবে বলেই তাঁর ধারণা। শরিকদের নিয়ে চলার ক্ষেত্রে মোদি তাঁর হিটলারির প্রমাণ দিয়েছেন। পাঁচ বছর পর বিজেপি এখন নবীন পটনায়েকের প্রধান প্রতিপক্ষ। সুতরাং বড় অঙ্কের শরিক জোগাড় করা এবার মোদির পক্ষে দুষ্কর। তাই এসপার–‌ওসপার হবে শেষ দফায়, একেবারে ফটো ফিনিশ।

জনপ্রিয়

Back To Top